News Flash

  • Home
  • দেশ
  • সিইসি-কে নিয়ে রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের সমালোচনায় বিজেপি, ‘ভাষা অনভিপ্রেত’ দাবি নেতাদের
Image

সিইসি-কে নিয়ে রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের সমালোচনায় বিজেপি, ‘ভাষা অনভিপ্রেত’ দাবি নেতাদের

নয়াদিল্লি, ২৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের সমালোচনা করলেন বিজেপির একাধিক নেতা ও মন্ত্রী। তাঁদের দাবি, চলমান বিতর্কে রাহুল গান্ধীর ব্যবহৃত ভাষা অনভিপ্রেত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার সুযোগ দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা।

রাজ্যসভার সাংসদ তথা আরএলএম-এর জাতীয় সভাপতি উপেন্দ্র কুশওয়াহা বলেন, মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। তবে বিরোধীদের ভাষা অনভিপ্রেত। তাঁর কথায়, দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের কাজ করতে দেওয়া উচিত এবং তাঁরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

জম্মু ও কাশ্মীরের বিজেপি বিধায়ক বিক্রম রন্ধাওয়া রাহুল গান্ধীর মন্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, তাঁর বক্তব্যের কীভাবে জবাব দেবেন তা বলা কঠিন। তবে তাঁর নিজের দলের সদস্যরাও তাঁর মন্তব্যকে গুরুত্ব দেন না বলে দাবি করেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, রাহুল গান্ধী কি আদালত ও বিচারব্যবস্থায় পরিণত হয়েছেন, নাকি সংবিধান নিজেই হয়ে গিয়েছেন যে তিনি ঠিক করবেন কাকে গ্রেফতার করা হবে। নির্বাচনে জনগণের ভোট না পাওয়ার জন্যও তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে কোনও দল পরাজিত হয়, তাহলে তার দায় কার।

ঝাড়খণ্ড বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বাবুলাল মারান্ডি বলেন, রাহুল গান্ধী গোটা কংগ্রেস দলকেই পিছনে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর দাবি, রাহুল অনেক সময় তথ্য না জেনেই মন্তব্য করেন, যা সাধারণ মানুষ গ্রহণ করতে পারে না।

মারান্ডি আরও বলেন, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রে কার সরকার ছিল, তা রাহুল গান্ধীকে মনে রাখা উচিত। তখন মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং ইউপিএ ক্ষমতায় ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, সেই সময় নির্বাচন কমিশনও কংগ্রেস সরকারের আমলেই নিয়োগ করা হয়েছিল, অথচ পরবর্তীতে কংগ্রেস নির্বাচনে পরাজিত হয়।

নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত অভিযোগের প্রসঙ্গে মারান্ডি বলেন, উত্থাপিত বেশিরভাগ বিষয়ই যুক্তিনির্ভর নয় এবং অনেক অভিযোগের ভিত্তি নেই। নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যে সিদ্ধান্ত সাধারণত সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নেওয়া হয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাহুল গান্ধী প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন এবং কথিত ‘ভোট চুরি’র বিষয়ে তাঁকে ‘অ্যাপ্রুভার’ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও তোলেন।

এই মন্তব্যের পটভূমিতে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-সহ বিভিন্ন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য আপত্তি জানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন অবশ্য ওই প্রতিবেদনের দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, কমিশনের সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছে।

রাহুল গান্ধী বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ‘অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি’ বা সরকার-বিরোধী জনমতের অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে বিজেপি তাঁর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়ার বৈধতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

Releated Posts

মেক ইন ইন্ডিয়া’র প্রভাব সর্বক্ষেত্রে দৃশ্যমান, বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

নয়াদিল্লি, ২৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে এর সাফল্য ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাবের…

ByByTaniya Chakraborty Sep 25, 2026

ভারত তৈরি করতে, উদ্ভাবন করতে এবং বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম: পীযূষ গোয়েল

নয়াদিল্লি, ২৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারত শুধু নিজের প্রয়োজন মেটানোর জন্য পণ্য উৎপাদন করছে না, বিশ্বের জন্যও পণ্য তৈরি…

ByByTaniya Chakraborty Sep 25, 2026

বিভিন্ন রাজ্যে নতুন সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়োগ বিজেপির

নয়াদিল্লি, ২৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন বৃহস্পতিবার বিভিন্ন রাজ্যে জাতীয় যুগ্ম সাধারণ…

ByByNews Desk Sep 24, 2026

বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত পাঞ্জাবে এসআইআর স্থগিতের দাবি কংগ্রেসের

চণ্ডীগড়, ২৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পাঞ্জাবে আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তার আগে রাজ্যে ভোটার…

ByByNews Desk Sep 24, 2026

Leave a Reply

Scroll to Top