রাঁচি, ২৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে গত চার দিন ধরে ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বইছে। এর জেরে জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি যান চলাচল, বিমান পরিষেবা ও পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে একাধিক জেলায় আবহাওয়া সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।
রাঁচির আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাবে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। একদিকে প্রবল বৃষ্টিতে তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে, অন্যদিকে রাজ্যে চলতি বর্ষার বৃষ্টির ঘাটতিও কমে মাত্র ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
১ জুন থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঝাড়খণ্ডে মোট ৯৩৫.৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা মৌসুমি স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কাছাকাছি। রাঁচিতে এই সময়ে ১,২৯৫.১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি।
প্রতিকূল আবহাওয়া ও কম দৃশ্যমানতার কারণে বিমান পরিষেবাতেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। শুক্রবার সকালে রাঁচির বিরসা মুন্ডা বিমানবন্দরে অবতরণের কথা থাকা চারটি বিমান খারাপ আবহাওয়ার কারণে অবতরণ করতে পারেনি। পুনে ও দিল্লি থেকে আসা বিমানগুলিকে বারাণসীর দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। মুম্বই থেকে আসা কয়েকটি বিমানকে কলকাতায় ফেরত পাঠানো হয়। এছাড়া দিল্লি-রাঁচি একটি বিমানের সময়সূচিও পরিবর্তন করতে হয়। এতে যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
প্রবল বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাব পড়েছে রাজ্যের সড়ক যোগাযোগেও। রাঁচির এজি মোড়, কাদরু, কোকর এবং সুরেন্দ্রনাথ স্কুল সংলগ্ন এলাকায় একাধিক গাছ উপড়ে পড়ে রাস্তা ও গাড়ির উপর পড়ে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
পার্শ্ববর্তী খুঁটি জেলাতেও আবহাওয়ার প্রভাবে টোরপা এলাকায় বানাই নদীর উপর একটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঝাড়খণ্ডের একাধিক জেলায় স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। রাঁচিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৫.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে ২৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে।
২৫ সেপ্টেম্বরের জন্য ঝাড়খণ্ডের আটটি জেলায় ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সতর্কতা জারি করেছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর। পালামৌ, গঢ়বা, চতরা, লাতেহার, হাজারিবাগ, কোডারমা, গিরিডি ও দেওঘর জেলায় অরেঞ্জ ও হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বরও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে আবহাওয়ার পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, গাছ এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। জলমগ্ন রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের সময়ও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



















