নিজস্ব প্রতিনিধি, ধর্মনগর, ৯ সেপ্টেম্বর:
এক রাতেই পরপর তিনটি দোকানে চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগরে। ব্যস্ত হরি মন্দির রোড এলাকায় দোকানের তালা ও শাটার ভেঙে নগদ অর্থ-সহ মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় ব্যবসায়ী মহলে আতঙ্কের পাশাপাশি শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাতে ব্যবসায়ীরা নিজেদের দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরে যান। বুধবার সকালে দোকান খুলতে এসে তাঁরা দেখতে পান, একাধিক দোকানের তালা ভাঙা এবং শাটার ক্ষতিগ্রস্ত। দোকানের ভিতরে সামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় চুরির বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তিনটি দোকান মিলিয়ে কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে দাবি ব্যবসায়ীদের।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ধর্মনগর থানার পুলিশ। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করতে হরি মন্দির রোড ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
তবে একই রাতে পরপর তিনটি দোকানে চুরির ঘটনায় পুলিশের রাতের টহল ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় রাতের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। শুধু চুরির পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত করলেই হবে না, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য নিয়মিত পুলিশি টহল এবং কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি, দোকান, মন্দির এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চুরির অভিযোগ সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। ফলে হরি মন্দির রোডের এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার পাশাপাশি এর সঙ্গে সাম্প্রতিক অন্যান্য চুরির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
এখন পুলিশের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ, দ্রুত চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা। পাশাপাশি কোনো সংঘবদ্ধ চক্র এই ধরনের চুরির সঙ্গে জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
পরপর চুরির ঘটনায় ধর্মনগরের নিরাপত্তা নিয়ে যখন প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে, তখন পুলিশের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে শহরবাসী। তাঁদের দাবি, ঘটনার পর তদন্তের পাশাপাশি চুরি প্রতিরোধে রাতের টহল, সিসিটিভি নজরদারি এবং বাণিজ্যিক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হোক।



















