গুয়াহাটি, ১২ আগস্ট (আইএএনএস): রাজ্য সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইকো-সেনসিটিভ জোন’ বা পরিবেশগত সংবেদনশীল অঞ্চল ঘোষণা না করা পর্যন্ত কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের চারপাশে বর্তমান ১০ কিলোমিটার বিধানই কার্যকর থাকবে বলে বুধবার স্পষ্ট করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশকে কোনওভাবেই বর্তমান ১০ কিলোমিটার বিধান অবিলম্বে কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা উচিত নয়।
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এক কিলোমিটার ইএসজেড সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণের অর্থ এই নয় যে কাজিরাঙার চারপাশের বর্তমান ১০ কিলোমিটার বিধান স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গিয়েছে।
তাঁর কথায়, কাজিরাঙার চারপাশে শেষ পর্যন্ত কত দূর পর্যন্ত ইএসজেড কার্যকর হবে, তা রাজ্য সরকারের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, ইকো-সেনসিটিভ জোন এক কিলোমিটারের মধ্যে হবে। এর অর্থ বর্তমান জোন কমিয়ে দেওয়া নয়। রাজ্য সরকার ইকো-সেনসিটিভ জোনের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি না করা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটারের বিধানই কার্যকর থাকবে।”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, কাজিরাঙার চারপাশে ১০ কিলোমিটার এলাকা ইএসজেড হিসেবে বজায় থাকলে কালিয়াবর, দভাকা, জখলাবন্ধা এবং বোকাখাতের মতো জনবহুল এলাকার উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। এই এলাকাগুলিতে বহু মানুষ বসবাস করেন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকায় বৃহত্তর ইএসজেড কার্যকর হলে তাঁদের সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে বলে জানান তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রভাব সম্পর্কে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে সাধারণ মানুষ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নির্দেশটি ভালোভাবে পড়ে বোঝার আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “বিষয়টি সঠিকভাবে না বুঝেই মানুষ নানা কথা বলছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ আমাদের সতর্কতার সঙ্গে পড়তে এবং বুঝতে হবে।”
ইএসজেড চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রথমে রাজ্যের বন দফতর একটি প্রস্তাব তৈরি করবে। এরপর রাজ্য সরকার সেই প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে পাঠাবে এবং পরে তা ন্যাশনাল বোর্ড ফর ওয়াইল্ডলাইফের সামনে পেশ করা হবে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মতে, সাধারণভাবে এক কিলোমিটারকে ইএসজেড-এর স্বাভাবিক পরিসর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই এলাকা তিন কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।
অসমের সম্প্রতি বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়া দীপোর বিলের ইএসজেড-এর উদাহরণও দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে এক কিলোমিটার এলাকা ইএসজেড হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি সংরক্ষিত এলাকার চারপাশে বাধ্যতামূলকভাবে ১০ কিলোমিটার ইএসজেড থাকতে হবে—এমন কোনও সর্বজনীন নিয়ম নেই বলেও তিনি জানান।
তবে রাজ্য সরকার আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি না করা পর্যন্ত কাজিরাঙার চারপাশে বর্তমান ১০ কিলোমিটার বিধানই বহাল থাকবে বলে ফের স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর তাতেই নির্ধারিত দূরত্ব কার্যকর হবে।



















