জবলপুর, ১০ আগস্ট (আইএএনএস): শ্রাবণ মাসের পবিত্র সোমবার উপলক্ষে মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের রাঞ্জি এলাকায় সোমবার বিশাল কাঁওয়ার যাত্রাকে কেন্দ্র করে ভক্তদের ঢল নামে। ‘সংস্কার কাঁওয়ার যাত্রা’-য় অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। তিনি কাঁওয়ারিয়াদের উপর ফুল ছড়ানোর পাশাপাশি সাধু-সন্ন্যাসী ও ভক্তদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে শোভাযাত্রায় যোগ দেন।
শোভাযাত্রায় বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়। ‘‘বোল কাঁওয়ারিয়া, বোল বম’’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। ঢোল ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের তালে ভক্তদের নাচতেও দেখা যায়।
আধ্যাত্মিক গুরু দাদা গুরু এবং একাধিক জনপ্রতিনিধির সঙ্গে শোভাযাত্রায় অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নিজে কাঁওয়ার তুলে নেন, ডমরু বাজান এবং ভক্তদের সঙ্গে হাঁটেন। কাঁওয়ারিয়ারা নর্মদার জল নিয়ে তা ভগবান শিবের উদ্দেশে নিবেদন করতে যাচ্ছিলেন।
যাত্রার বিশালতা প্রসঙ্গে মোহন যাদব বলেন, ‘‘এর আগে কাঁওয়ার যাত্রা দেখেছি, কিন্তু এত বড় কাঁওয়ার যাত্রা এই প্রথম দেখছি। দাদা গুরুর নেতৃত্বে কাঁওয়ারিয়ারা সম্পূর্ণ ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে এই যাত্রায় অংশ নিয়েছেন।’’
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভক্তরা তাঁদের আধ্যাত্মিক সংকল্পের অংশ হিসেবে নর্মদার জল বহন করছেন এবং সেই জল ভগবান শিবকে নিবেদন করবেন। তীর্থযাত্রীদের জন্য আরও উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত করা, ধর্মীয় পর্যটনের প্রসার এবং ধর্মীয় স্থানগুলিতে পরিকাঠামোর উন্নয়নে মধ্যপ্রদেশ সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
সনাতন সংস্কৃতি আত্মসংযম, উন্নতি এবং জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার শক্তি শেখায় বলে মন্তব্য করেন যাদব। যাত্রায় অংশ নেওয়া সাধু-সন্তদের আধ্যাত্মিক বার্তার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, জীবনের উদ্দেশ্য শুধু বস্তুগত চাহিদা পূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘জীবন শুধু খাওয়া-দাওয়ার জন্য নয়। পবিত্র পথ অনুসরণ করে মানুষ পরম সত্তার দিকে এগিয়ে যেতে পারে। দাদা গুরু তাঁর জীবনযাপনের মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে জলকেও জীবনের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব।’’
মধ্যপ্রদেশের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে নর্মদার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, নর্মদাকে ভগবান শিবের প্রকাশ হিসেবেও শ্রদ্ধা করা হয়।
সাধু-সন্ন্যাসী ও বিপুল সংখ্যক ভক্তের অংশগ্রহণ, ধর্মীয় সঙ্গীত এবং ভক্তিগাথায় জবলপুরের শ্রাবণ সোমবারের ধর্মীয় আবহ আরও গভীর হয়ে ওঠে। মধ্যপ্রদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত জবলপুরে এই বিশাল কাঁওয়ার যাত্রা উৎসবের আবহ তৈরি করে।
—আইএএনএস



















