নয়াদিল্লি, ৮ আগস্ট (আইএএনএস): আইআইটি দিল্লির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনার প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে বাবা বাগেশ্বরের নাম উল্লেখ করে হালকা মেজাজের মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর সেই রসিক মন্তব্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত পড়ুয়া ও অতিথিদের মধ্যে হাসির রোল ওঠে।
শনিবার ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) দিল্লির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা সবাই আজ এখানে উপস্থিত। কিন্তু আপনাদের মনের মধ্যে নিশ্চয়ই অনেক কিছু চলছে। আমি বাবা বাগেশ্বর নই, তবে আপনাদের মনে কী চলছে, তা নিশ্চয়ই কিছুটা বোঝা যায়।”
এরপর পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন চিন্তার কথা তুলে ধরে মোদি বলেন, কেউ ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন, কেউ বেতন নিয়ে, কেউ নতুন শহরে নতুন করে জীবন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আবার কেউ স্টার্ট-আপ নিয়ে পরিকল্পনা করছেন। প্রত্যেকের পথ ও স্বপ্ন আলাদা হলেও আইআইটি দিল্লিতে প্রথম দিন এবং সমাবর্তনের আজকের দিনটির মধ্যে নিজেদের যাত্রাপথের কথা স্মরণ করে প্রত্যেকেরই এক ধরনের তৃপ্তি অনুভব করার কথা বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ওরিয়েন্টেশন থেকে সমাবর্তন পর্যন্ত আপনাদের যাত্রা নিশ্চয়ই আপনাদের গর্বিত ও তৃপ্ত করেছে। এই মুহূর্তটিকে আপনারা সকলেই উপভোগ করুন এবং স্মরণীয় করে রাখুন।”
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ৫৮৭ জন পিএইচডি গবেষক-সহ ৩ হাজারেরও বেশি পড়ুয়ার হাতে ডিগ্রি তুলে দেওয়া হয়। পড়ুয়াদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানান। তিনি বলেন, তাঁরা শুধু একটি ডিগ্রি নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন না, দেশের জন্য কিছু করার স্বপ্নও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
মোদি বলেন, “আজ আপনাদের পরিবারগুলি যেভাবে গর্বিত বোধ করছে, আমিও আপনাদের সকলকে নিয়ে গর্বিত। আপনারা শুধু একটি ডিগ্রি নিয়ে যাচ্ছেন না, দেশের জন্য কিছু করার স্বপ্নও সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।”
অনুষ্ঠানে কৃতী পড়ুয়াদের হাতে আইআইটি দিল্লির বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ অ্যাকাডেমিক সম্মানও তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে ছিল প্রেসিডেন্টস গোল্ড মেডেল, ডিরেক্টরস গোল্ড মেডেল, শঙ্কর দয়াল শর্মা গোল্ড মেডেল এবং পারফেক্ট টেন গোল্ড মেডেল।
অনুষ্ঠানে আরও একবার রসিকতার সুরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যদি কৃতী পড়ুয়াদের মধ্যে কয়েকজন মেয়ে থাকত, তাহলে আরও ভালো হত। দুঃখিত, কয়েকজন নয়, অনেকেই রয়েছেন।” তাঁর এই মন্তব্যেও অনুষ্ঠানে হাসির পরিবেশ তৈরি হয়।
পড়ুয়াদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জীবনে যখনই অতীতের দিকে ফিরে তাকানোর সুযোগ আসবে, তখন আইআইটি দিল্লির ক্যাম্পাস জীবন, বন্ধু, শিক্ষক এবং সহায়ক কর্মীদের কথা তাঁদের মনে পড়বে। এই মানুষগুলিই একসময় তাঁদের পরিবারের মতো এবং ক্যাম্পাসকে বাড়ির মতো করে তুলেছিলেন বলে উল্লেখ করে তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার বার্তা দেন তিনি।
এদিন আইআইটি দিল্লির সোনিপত ক্যাম্পাসে ‘পরম প্রজ্ঞা’ নামে একটি এআই-চালিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সুপারকম্পিউটিং পরিকাঠামোরও ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এই অত্যাধুনিক পরিকাঠামো প্রতিষ্ঠানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স, অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং এবং বিভিন্ন শাখার সমন্বিত গবেষণার সক্ষমতা আরও বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।



















