নয়াদিল্লি, ৮ আগস্ট (আইএএনএস): ছাত্র সমস্যা এবং জনসংযোগ নিয়ে কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। থারুরের বক্তব্যকে সমর্থন করেছে বিজেপি। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতারা দাবি করেছেন, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের ঊর্ধ্বে উঠে ছাত্রদের সমস্যার পাশাপাশি ব্যবস্থাগত সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছেন।
সারা দেশে ছাত্র বিক্ষোভের সময় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) যে বিষয়গুলি সামনে এনেছিল, তার অনেকগুলিই রাহুল গান্ধী এর আগেই ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ প্রচারের মাধ্যমে তুলেছিলেন বলে মন্তব্য করেছিলেন থারুর। তবে তাঁর দাবি, সেই সময় ওই বিষয়গুলি জনমানসে সিজেপি-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মতো সাড়া ফেলতে পারেনি।
মুম্বইয়ে ইন্ডিয়াস ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট টু ইউনাইট নেশনস (আইআইএমইউএন)-এর ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে থারুর বলেন, কংগ্রেস এবং রাহুল গান্ধী ছাত্র আন্দোলনে পরবর্তীকালে উঠে আসা একই ধরনের সমস্যাগুলি কয়েক মাস আগেই সামনে এনেছিলেন।
তিনি বলেন, “মজার বিষয় হল, সিজেপি যে বিষয়গুলি তুলেছিল, সেগুলিই আমার দল এবং রাহুল গান্ধী ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’-এর মাধ্যমে তুলেছিলেন।”
আইআইএমইউএনের প্রতিষ্ঠাতা ঋষভ শাহের সঙ্গে কথোপকথনের সময় এই মন্তব্য করেন থারুর। ঋষভ শাহ বুধবার রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবতেরও সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন।
তবে কংগ্রেসের ওই প্রচার কেন সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রত্যাশিত সাড়া ফেলতে পারেনি, সেই প্রশ্নও তোলেন থারুর। তিনি বলেন, “কিন্তু কেন এটি ততটা সাড়া ফেলেনি, তা আমাদের দেখতে হবে। মানুষের মন কী বলছে, তার সঙ্গে আমাদের সংযোগ রাখতে হবে।”
থারুরের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিহারের মন্ত্রী রাম কৃপাল যাদব বলেন, “শশী থারুর সত্যি কথা বলেন। তিনি একজন ভালো এবং বুদ্ধিজীবী মানুষ। তিনি রাজনীতিকের চেয়ে বেশি বুদ্ধিজীবী, তাই সত্যি কথা বলেন।” তাঁর দাবি, কংগ্রেস নির্বাচনে জিততে পারছে না, রাজনীতিতে ক্রমশ প্রান্তিক হয়ে পড়ছে এবং মানুষের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে—থারুরের মন্তব্যেও সেই বিষয়টি উঠে এসেছে।
অন্যদিকে সিপিআই সাংসদ পি. সন্তোষ কুমার থারুরের বক্তব্য খারিজ করে বলেন, ছাত্র আন্দোলন ইতিমধ্যেই তাদের লক্ষ্য অর্জন করেছে। এখন সেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে মন্তব্য করার কোনও অর্থ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, আন্দোলন শেষ হয়ে গিয়েছে এবং ছাত্ররা বড়সড় সাফল্য পেয়েছে। তাঁর দাবি, কাগজ ফাঁসের বিষয়টি সিপিআইও শুরু থেকেই তুলেছিল এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিল। তাই এখন নতুন করে এই প্রসঙ্গ তোলাকে অর্থহীন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কংগ্রেস নেতা হুসেন দলওয়াই অবশ্য দলীয় নেতাদের জনসংযোগ আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাহুল গান্ধী কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং অন্য নেতাদেরও সেই প্রচেষ্টায় অবদান রেখে তাঁকে সমর্থন করা উচিত।
রাহুল গান্ধীর পাশে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস সাংসদ সুখদেও ভগত বলেন, বিরোধী দলনেতা দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদের সমস্যাগুলি তুলে ধরছেন এবং রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির হিসাবের পরিবর্তে ব্যবস্থাগত সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছেন।
ভগতের কথায়, রাহুল গান্ধী ছাত্রদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরছেন এবং বহু বছর ধরে পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো সমস্যা নিয়ে সরব হয়েছেন। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র মতো প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে কাজ না করলে লক্ষ লক্ষ তরুণ ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাঁর দাবি, রাহুল গান্ধী বিষয়টি রাজনৈতিক লাভ বা ক্ষতির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন না, বরং ব্যবস্থাগত সংস্কারের জন্য কাজ করছেন।



















