ভোগাপুরম (অন্ধ্রপ্রদেশ), ১ আগস্ট (আইএএনএস): অন্ধ্রপ্রদেশের ‘বিকশিত ভারত’-এর প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান ইঞ্জিন হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার বিজয়নগরম জেলার ভোগাপুরমে অলুরি সীতারাম রাজু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন এবং প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু এবং উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণের নেতৃত্বে এনডিএ সরকার অন্ধ্রপ্রদেশের উন্নয়নে দ্বিগুণ গতিতে কাজ করছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, রাজ্যের দ্রুত উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি জনগণের কাছে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের জন্য সমর্থন চেয়েছিলেন।
মোদী বলেন, বিমানবন্দর ছাড়াও এদিন উদ্বোধন হওয়া প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে সড়ক যোগাযোগ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতের একাধিক উদ্যোগ। তাঁর মতে, এই প্রকল্পগুলি অন্ধ্রপ্রদেশের দ্রুত উন্নয়নের প্রতীক এবং ‘স্বর্ণ অন্ধ্র’ ও ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তিনি জানান, গত ১২ বছরে ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে। ২০১৪ সালে দেশে যেখানে মাত্র ৭৪টি কার্যকর বিমানবন্দর ছিল, বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ১৬৬-এ পৌঁছেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় বিমানযাত্রা কেবল বড় শহর ও সচ্ছল মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এনডিএ সরকারের উড়ান (উড়ে দেশ কা আম নাগরিক) প্রকল্পের ফলে এখন ছোট শহর এবং সাধারণ পরিবারের মানুষও বিমানযাত্রার সুযোগ পাচ্ছেন। সম্প্রতি উড়ান প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় চালু হয়েছে, যেখানে আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণে ২৯ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি কাশীতে ‘হাব-অ্যান্ড-স্পোক’ বিমানবন্দর মডেল চালু হয়েছে এবং এখন সেই মডেল অমৃতসরেও কার্যকর করা হয়েছে, যার মাধ্যমে অমৃতসরকে ২৫টিরও বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, আগে নতুন বিমানবন্দরগুলির নামকরণ একটি নির্দিষ্ট পরিবারের সদস্যদের নামে করা হতো, কিন্তু এনডিএ সরকার সেই প্রথা বদলেছে।
‘বিনিয়োগই কর্মসংস্থানের ভিত্তি’— এই মন্ত্রে কেন্দ্র সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলিকেও বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে কোনও অঞ্চলকে প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে শক্তিশালী পরিকাঠামো ও একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম প্রয়োজন। অন্ধ্রপ্রদেশে সেই পরিবেশই তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, চন্দ্রবাবু নাইডুর নিরলস প্রচেষ্টার ফলে বিশ্বের বহু বড় সংস্থা এখন অন্ধ্রপ্রদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী।
উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের উন্নয়নের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশাখাপত্তনম থেকে কৃষ্ণপত্তনম পর্যন্ত বিদ্যমান বন্দরগুলিকে আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি মুলাপেটা ও রামায়াপত্তনমে নতুন বন্দর নির্মাণের কাজ চলছে, যাতে উপকূলীয় অর্থনৈতিক করিডর গড়ে তোলা যায়।
তিনি আরও বলেন, রাজ্যে দ্রুত হাইওয়ে ও এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ এগোচ্ছে। বিশাখাপত্তনম-রায়পুর এক্সপ্রেসওয়ের মতো প্রকল্প এই অঞ্চলের উন্নয়নে নতুন গতি আনবে। এছাড়া দেশের শিল্পাঞ্চলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ আরও মজবুত করতে অন্ধ্রপ্রদেশে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার রেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সেমিকন্ডাক্টরের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিকাঠামো ও ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার কাজও চলছে। তিনি বলেন, গুগল অন্ধ্রপ্রদেশে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে একটি এআই ও ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ক্যাম্পাস গড়ার ঘোষণা করেছে। এর ফলে রাজ্যের পাশাপাশি দেশের যুবসমাজও ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে।
তিনি বলেন, পিএম গতিশক্তি ন্যাশনাল মাস্টার প্ল্যান-এর মাধ্যমে রেল, বন্দর এবং বিমানবন্দরগুলিকে একত্রিত করে আধুনিক লজিস্টিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে শিল্প, কৃষি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ১৩ হাজারেরও বেশি আদিবাসী মহিলা ঐতিহ্যবাহী ‘ধিমসা’ নৃত্য পরিবেশন করেন। তাঁদের উৎসাহ, শৃঙ্খলা এবং আদিবাসী সংস্কৃতির ঐতিহ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিনের অনুষ্ঠানে অন্ধ্রপ্রদেশের রাজ্যপাল এস. আবদুল নাজির, গোয়ার রাজ্যপাল অশোক গজপতি রাজু, মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু, উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণ, কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী কে. রাম মোহন নাইডু-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



















