নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ জুলাই: উচ্চশিক্ষা ও চাকরির বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ধারাবাহিক প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অবক্ষয়ের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। এক বিবৃতিতে দলটি দাবি করেছে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আজ গভীর সংকটের মুখে এবং এর ফলে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
প্রদেশ কংগ্রেসের অভিযোগ, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, আইএএস, আইপিএস, বিচারকসহ বিভিন্ন চাকরি ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের পরীক্ষায় একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁস, উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। ত্রিপুরায় টিপিএসসি, টিপিএস -সহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষাতেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি করা হয়। বহু ক্ষেত্রে তদন্ত, পুনঃপরীক্ষা এবং গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হলেও বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে অনিয়ম কমেনি। বরং আইন প্রণয়নকারী, প্রয়োগকারী সংস্থা এবং অপরাধীদের মধ্যে যোগসাজশের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। অতীতে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংস্থার প্রতিনিধিদের এনটিএ ও সিবিএসই -এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে কংগ্রেস।
প্রদেশ কংগ্রেসের দাবি, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও বেসরকারিকরণের নীতির ফলে দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা ক্রমশ উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে অর্থ ও রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে তরুণ সমাজের মধ্যে হতাশা বাড়ছে এবং বহু মেধাবী বিদেশমুখী হচ্ছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে নিট -সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতির অভিযোগের জেরে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। এই আন্দোলনে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, জাতীয় কংগ্রেস এবং বিভিন্ন বিরোধী দল সমর্থন জানায়। সোনম ওয়াংচুকের অনশন, যন্তর-মন্তরে ছাত্রদের অবস্থান এবং সংসদ অভিযানের মতো কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
কংগ্রেসের অভিযোগ, আন্দোলন দমনে সরকার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী ব্যবহার করেছে এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও পেলেট গান ব্যবহারের পাশাপাশি নারী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনাও ঘটেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে এই বিবৃতিতে কোনো প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে না। শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রকৃত সংস্কার প্রয়োজন। পাশাপাশি ছাত্র আন্দোলনের সময় বলপ্রয়োগের নির্দেশ কার ছিল, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ব্যাখ্যা দাবি করেছে প্রদেশ কংগ্রেস। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে আহত ছাত্রছাত্রী ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
প্রদেশ কংগ্রেসের আহ্বান, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং পরীক্ষার্থীদের ন্যায়বিচারের দাবিতে ছাত্র-যুব সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে গণআন্দোলনে শামিল হতে হবে।


















