ধর্মনগর, ২৭ জুলাই: ১০ দফা দাবিতে ধর্মনগরে মিছিল করে মহকুমা শাসকের (এসডিএম) কাছে গণডেপুটেশন প্রদান করল ত্রিপুরা তপশিলী জাতি সমন্বয় সমিতি। সংগঠনের ধর্মনগর মহকুমা কমিটির উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন সিপিআই(এম) ধর্মনগর মহকুমা দফতরের সামনে থেকে একটি সুসজ্জিত মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক পরিক্রমা করে ধর্মনগর এসডিএম কার্যালয়ে পৌঁছায়। পরে সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল মহকুমা শাসকের কাছে স্মারকলিপি ও দাবিসনদ তুলে দেয়।
স্মারকলিপিতে তপশিলী জাতি সম্প্রদায়সহ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত একাধিক মৌলিক দাবি তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে জাতভিত্তিক জনগণনা চালু করা এবং ত্রিপুরায় লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করে তপশিলী সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।
শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ সরকারি খরচে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা চালু, তপশিলী ছাত্র-ছাত্রীদের সব স্তরে স্টাইপেন্ড বৃদ্ধি এবং আয়ের ঊর্ধ্বসীমা তুলে দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে সংগঠনের দাবি, সমস্ত সরকারি ও আধা-সরকারি দফতরের শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করতে হবে এবং বেসরকারি ক্ষেত্রেও সংরক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি রেগা ও টুয়েপ প্রকল্পে কাজের দিন বাড়িয়ে ২০০ দিন করা এবং দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।
কৃষি, মৎস্য ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্তদের জন্য সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ এককালীন মুকুব এবং ঋণের সুদের হার কমানোর আবেদন জানানো হয়েছে।
ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলির জন্য জমি প্রদান এবং পাকা বাড়ি নির্মাণের জন্য সরকারি সহায়তার পরিমাণ ন্যূনতম ৫ লক্ষ টাকা করার দাবিও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও সামাজিক ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে ৫,০০০ টাকা করা, বাদ পড়া যোগ্য ব্যক্তিদের পুনরায় ভাতার আওতায় আনা, প্রতি পরিবারকে ১০০ ইউনিট বিদ্যুৎ বিনামূল্যে প্রদান এবং মাথাপিছু ১০ কেজি বিনামূল্যে চাল দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
দলিত ও তপশিলী সম্প্রদায়ের উদ্যোগী ও পেশাজীবীদের আর্থিক সহায়তা, সরকারি বাণিজ্য কেন্দ্র ও বাজারে স্টল বরাদ্দ এবং মৎস্যজীবী, লন্ড্রিজীবী, চর্মশিল্পী ও হরিজন সম্প্রদায়ের পেশাগত উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি লাগামহীন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ওপর অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণের দাবি তুলে ধরেছে সংগঠন।
ডেপুটেশন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উজ্জ্বলা দাস, সীতেশ রঞ্জন দাস, নিরঞ্জন মল্লিক, অশোক দাস, গৌরাঙ্গ দাস-সহ ত্রিপুরা তপশিলী জাতি সমন্বয় সমিতির মহকুমা সম্পাদক তাপস সরকার।
স্মারকলিপি গ্রহণের পর প্রশাসনিক স্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের মহকুমা সম্পাদক।

















