আগরতলা, ২৩ জুলাই: আগরতলার এক পাইলটের দায়ের করা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের ভিত্তিতে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস এবং ডিরেক্টর জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ)-কে নোটিশ জারি করেছে ত্রিপুরা মানবাধিকার কমিশন (টিএইচআরসি)। কমিশনের চেয়ারপার্সন বিচারপতি অরিন্দম লোধের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ অভিযোগটি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে আগামী ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ নির্ধারিত শুনানির আগে জবাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।
অভিযোগকারী আগরতলার বাসিন্দা ক্যাপ্টেন পার্থ ভৌমিক তাঁর আবেদনে দাবি করেছেন, কলকাতায় পোস্টিং ও পদোন্নতির আশ্বাস দিয়ে তাঁকে একটি প্রশিক্ষণ বন্ডে স্বাক্ষর করানো হলেও পরবর্তীতে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। এছাড়া ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ২২ জুন পর্যন্ত প্রায় ১৩ মাস তাঁর বেতন বন্ধ রাখা হয় এবং চলতি বছরের ২২ জুন কোনও যথাযথ নোটিশ ছাড়াই চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ক্যাপ্টেন ভৌমিক আরও অভিযোগ করেন, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস তাঁর নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) এবং চাকরি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র আটকে রেখেছে। ফলে তিনি অন্য কোনও সংস্থায় চাকরির সুযোগও পাচ্ছেন না।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে চালু হওয়া নতুন গ্রুপ সিনিয়রিটি লিস্ট তাঁর পদোন্নতির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বেতন বন্ধ এবং চাকরিচ্যুত হওয়ার কারণে তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় সোনা বন্ধক রাখতে হয়েছে এবং ঋণ আদায়ের নোটিশেরও মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
এছাড়া চাকরি চলে যাওয়ার পর কর্পোরেট স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁর ৭৮ বছর বয়সি মায়ের চিকিৎসাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৬ জুন তাঁর মা আইসিইউ-তে ভর্তি হন।
অভিযোগকারী কমিশনের কাছে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, অবিলম্বে এনওসি ও অন্যান্য নথি ফেরত দেওয়া এবং বকেয়া পাওনা বাবদ ২.৪৪ কোটি টাকা, মানসিক হয়রানি ও ইচ্ছাকৃত অসদাচরণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১ কোটি টাকা, অর্থাৎ মোট ৩.৪৪ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে ত্রিপুরা মানবাধিকার কমিশন প্রাথমিকভাবে মনে করেছে, অভিযোগে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় উঠে এসেছে। কমিশন উল্লেখ করেছে, ক্যাপ্টেন পার্থ ভৌমিক আগে ভিস্তারা-র পাইলট ছিলেন এবং টাটা গোষ্ঠীর বিমান সংস্থাগুলির পুনর্গঠনের পর তিনি এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসে নতুন নিয়োগপত্র পান। তাঁর অভিযোগ, সংস্থার একীভূতকরণের পর চাকরির শর্ত, বেতন কাঠামো, পদোন্নতি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে এবং তাঁর মাকে দেওয়া চিকিৎসা বিমার সুবিধাও কোনও পূর্ব নোটিশ ছাড়াই বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এই পরিস্থিতিতে কমিশন এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস এবং ডিজিসিএ-কে নোটিশ জারি করে আগামী ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬-এর মধ্যে লিখিত জবাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।
























