পাটনা, ২৩ জুলাই (আইএএনএস) : নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিহারের বিভিন্ন জেলায় ছাত্রদের বিক্ষোভ বৃহস্পতিবার সহিংস রূপ নেয়। দরভাঙ্গা ও বেগুসরাইয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুললেও, পুলিশের দাবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে দরভাঙ্গার লহেরিয়াসরাই থানার অন্তর্গত লোহিয়া চকে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়তে শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাথর নিক্ষেপে শহরের পুলিশ সুপার (এসপি) অশোক কুমারের পায়ের কাছে আঘাত লাগে এবং রক্তপাত হয়। ঘটনায় এক পুলিশ কনস্টেবলও আহত হন।
প্রশাসনের দাবি, প্রায় দুই হাজার ছাত্রছাত্রী পূর্বানুমতি ছাড়াই কর্পূরি চক এলাকায় জড়ো হয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কালেক্টরেটের উদ্দেশে মিছিল শুরু করেন। মিছিল চলাকালীন বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশের দিকে পাথর ছুড়লে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। তাতেও বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ না হওয়ায় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ বাহিনী সাত রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।
ঘটনার দু’ঘণ্টা পরও লহেরিয়াসরাই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। জেলা শাসক কৌশল কুমার, সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (এসএসপি) জগুনাথ রেড্ডি জলারেড্ডিসহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। অতিরিক্ত পুলিশ ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, বেগুসরাইয়েও একই দাবিতে ছাত্রদের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভকারীরা জেলা কালেক্টরেটের দিকে অগ্রসর হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই ব্যারিকেড বসানো হয় এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ, বিশেষ বাহিনী ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করার জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও, একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে কালেক্টরেটে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে বলপ্রয়োগ করা হয়। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অন্তত ছয়জনকে আটক করা হয়।
পুলিশি অভিযানের পর বিক্ষোভকারীরা কিছু সময়ের জন্য সরে গেলেও পরে আবার জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন, ফলে এলাকায় উত্তেজনা বজায় থাকে। জেলার পুলিশ সুপার মনীশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং গোটা এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়।
পরিস্থিতির মধ্যে বিক্ষোভকারীদের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল জেলা শাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবিসংবলিত স্মারকলিপি জমা দেয়। তবে বৈঠকের পরও বহু ছাত্রছাত্রী কালেক্টরেট চত্বরে অবস্থান করায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়।
পুলিশ সুপার মনীশ জানান, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই বিক্ষোভকারীদের কালেক্টরেটে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, কয়েকজন শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করায় পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, কালেক্টরেট এলাকা সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে, টহলদারি জোরদার করা হয়েছে এবং গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি প্রশাসন আবেদন জানিয়েছে।



















