নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২২ জুলাই: দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জের অভিযোগ এবং নিট-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের প্রতিবাদে বুধবার আগরতলা শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করল প্রদেশ কংগ্রেস, ত্রিপুরা প্রদেশ যুব কংগ্রেস এবং এনএসইউআই। যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিক্ষোভ মিছিলের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের কুশপুত্তলিকাও দাহ করা হয়।
এদিন শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে বিক্ষোভ মিছিলটি। মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতা-কর্মীরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং ছাত্র-যুবদের স্বার্থ রক্ষার দাবিতে সরব হন। পরে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কংগ্রেসের নেতারা। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (সিডব্লিউসি) সদস্য তথা বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ, প্রদেশ কংগ্রেসের নেতা, যুব কংগ্রেস ও এনএসইউআই-এর নেতৃত্ব এবং বিপুল সংখ্যক ছাত্র-যুব কর্মী।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ অভিযোগ করেন, দিল্লিতে নিজেদের ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর পুলিশ অকারণে বলপ্রয়োগ করেছে। তাঁর দাবি, গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার অধিকার সকলের রয়েছে, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার সেই অধিকারকে দমন করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ১২ বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে নিট-সহ মোট ১৫২টি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সুদীপ রায় বর্মণ বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ছাত্র-যুব সমাজের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমেই ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের অধিকার আদায় করতে পারবেন।
এদিন বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাক্ষেত্রে অনিয়মের দায় কেন্দ্রীয় সরকারকে নিতে হবে এবং এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
উল্লেখ্য, নিট-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম এবং দিল্লির সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে। সেই আবহেই ত্রিপুরাতেও আন্দোলনে নেমেছে বিরোধী কংগ্রেস।



















