শিমলা, ১১ জুলাই (আইএএনএস): হিমাচল প্রদেশের রাজধানী শিমলার সঞ্জৌলি কলেজ সংলগ্ন বোথওয়েল এলাকায় শনিবার ভোরে একটি বড় ধরনের ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং অন্তত তিন থেকে চারটি বাড়ি গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার ভোর প্রায় ৪টা নাগাদ অধিকাংশ মানুষ যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন সঞ্জৌলি কলেজমুখী রাস্তার নীচের একটি রিটেনিং ওয়াল (ধারণ প্রাচীর) ধসে পড়ে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ মাটি ও ধ্বংসাবশেষ নিচের ঢালে গড়িয়ে এসে আবাসিক এলাকায় পৌঁছে যায়। এতে কয়েকটি বাড়িতে যাওয়ার পথও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
বাসিন্দাদের দাবি, অন্তত তিন থেকে চারটি ভবন এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আরও মাটি ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ভূমিধসের পর আতঙ্কিত বাসিন্দারা ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং বৃষ্টির মধ্যেই দীর্ঘক্ষণ নিরাপদ আশ্রয়ের অপেক্ষায় থাকেন। তাঁদের অভিযোগ, বারবার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাড়ি খালি করার পরামর্শ দেয়। কিন্তু অনেকেরই অন্য কোথাও থাকার ব্যবস্থা না থাকায় তাঁরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সকাল থেকেই কাউন্সিলর, বিধায়ক এবং মেয়রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের ফোনের কোনও উত্তর মেলেনি এবং কোনও জনপ্রতিনিধিও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেননি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য অবিলম্বে ত্রাণ, নিরাপদ আশ্রয় এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় একটি বেসরকারি নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ব্যাপক পাহাড় কাটার অনুমতি দিয়েছিল পুরসভা। তাঁদের দাবি, লাগাতার বৃষ্টিতে ওই খনন করা ঢাল দুর্বল হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। তাই অবিলম্বে নির্মাণকাজ বন্ধ করা এবং গোটা এলাকার বিস্তারিত ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা করার দাবিও তুলেছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৮ জুন একই এলাকায় একই ধরনের একটি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় বিশাল পাথর ও ধ্বংসাবশেষ বাড়ির উপর ভেঙে পড়ে, যার ফলে কয়েকজন মহিলা ও শিশু আটকে পড়েছিলেন। বর্ষা মৌসুম এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় আগামী দিনে আরও ভূমিধসের আশঙ্কায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।



















