নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১০ জুলাই: বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং ব্যবসা পরিচালনার সহজীকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত দু’দিনব্যাপী ‘ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ’ আজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। আজ দ্বিতীয় দিনে কনক্লেভ-র সমাপ্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীপরিষদ সচিবালয়ের বিশেষ সচিব কেশব কুমার পাঠক, রাজ্যের মুখ্য সচিব জে. কে. সিনহা, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, গ্রামোন্নয়ন ও বিদ্যুৎ দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং-সহ শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীগণ।
অনুষ্ঠানে মুখ্য সচিব জে. কে. সিনহা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংস্কারমুখী ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীপরিষদ সচিবালয়ের বিশেষ সচিব কেশব কুমার পাঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি জানান, কনক্লেভের প্রথম দিন থেকেই শিল্পমহলের ব্যাপক সাড়া মিলেছে এবং ইতোমধ্যেই ত্রিপুরায় এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের এসেছে। তিনি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজ্যের স্থান ঊর্ধ্বমুখী। রাজ্যের অর্থনৈতিক সংস্কার গত দু বছরে দশ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষ সচিব কেশব কুমার পাঠক প্রশাসনিক সংস্কার ও ডিরেগুলেশন বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, মাত্র তিন মাসের মধ্যে ত্রিপুরা সরকার দ্রুততার সঙ্গে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ণ করেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি জানান, ‘ত্রিপুরা মডেল’ ইতিমধ্যেই দেশের একাধিক রাজ্যের কাছে অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ত্রিপুরা রাজ্য সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে বলেন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ হয়েছে। তিনি শিল্প প্রতিনিধিদের ২০২৭ সালে শুরু হতে যাওয়া ডিরেগুলেশনের তৃতীয় পর্যায়ের আগে গঠনমূলক মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান। দ্বিতীয় অধিবেশনে মুখ্য সচিব জে. কে. সিনহা, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে, ভি. অনন্ত নাগেশ্বরন এবং অর্থ দপ্তরের সচিব পি. কে. গোয়েল অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং শিল্পবান্ধব নীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিদ্যুৎ দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং উপস্থিত অতিথি ও প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও বেসরকারি সংস্থার মধ্যে একাধিক সমঝোতাপত্র (মউ) স্বাক্ষর। শিল্প ও বাণিজ্য, প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন, উদ্যানপালন, উচ্চশিক্ষা, বিদ্যালয় শিক্ষা, পর্যটন, মৎস্য, পরিবহন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ, বিদ্যুৎ এবং তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তর বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষর করে। তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তর গুগল ইন্ডিয়া, আইআইটি খড়াপুর এবং আইসিটি অ্যাকাডেমি-র সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করে।
দু’দিনব্যাপী এই কনক্লেভের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের পরিচালক ড. দীপক কুমার ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথি, বিনিয়োগকারী, শিল্প প্রতিনিধি এবং অংশগ্রহণকারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, এই কনক্লেভ ত্রিপুরাকে দেশের অন্যতম বিনিয়োগবান্ধব রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
























