আগরতলা, ১০ জুলাই: আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশনের মিশন স্টিয়ারিং গ্রুপের তৃতীয় সভা আজ নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জে. পি. নাড্ডার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের রাজ্য মিশন অধিকর্তা সাজু বাহিদ এ, আয়ুষ্মান ভারত ত্রিপুরার কার্যনির্বাহী আধিকারিক জি. শরথ নায়েক। এছাড়াও সভায় মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রীগণ সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতাপরাও যাদব এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া প্যাটেল, বাণিজ্য ও শিল্প দপ্তরের কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জীতিন প্রসাদ সহ মিশন স্টিয়ারিং গ্রুপের অন্যান্য সদস্যা-সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা বলেন, আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশন কেন্দ্রীয় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল স্বাস্থ্য উদ্যোগ। এর মাধ্যমে দেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের ডিজিটালি স্বাস্থ্য পরিচয় প্রদান করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবাকে নিরাপদ ও সুসংহত প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ নাগরিকের আভা অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এছাড়া হেলথ ফ্যাসিলিটি রেজিস্ট্রি (এইচ.এফ.আর.) এবং হেলথ প্রফেশনাল রেজিস্ট্রি (এইচ.পি.আর.) এর কাজ ১০০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩১টি সরকারি হাসপাতালে স্ক্যান এবং শেয়ার পরিষেবার মাধ্যমে প্রায় ১৮ লক্ষ ডিজিটাল টোকেন রোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এরফলে রোগীদের অপেক্ষার সময় কম লাগার পাশাপাশি পরিষেবাও দ্রুত প্রদান সম্ভব হচ্ছে। আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশনের আওতায় মডেল হাসপাতাল হিসেবে আইজিএম হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসা রোগীদের বিভিন্ন পরিষেবা ডিজিটালি প্রদান করা হচ্ছে। রাজ্যের পশ্চিম ত্রিপুরা জেলাকে আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশনের আওতায় মডেল জেলা হিসাবে বিভিন্ন কর্মসূচি রূপায়ণ করার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। রাজ্যে ১০০ শতাংশ নাগরিকের আভা অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য ডোর টু ডোর সচেতনতা কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, পিএম-জেএওয়াই এবং সিএম-জেএওয়াই ভুক্ত রাজ্যের সমস্ত সরকারি, বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশন সমন্বিত হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এইচ.এম.আই.এস.) চালু করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোগীদের তথ্য এবং স্বাস্থ্য রেকর্ড সহজভাবে আদান-প্রদানের উদ্দেশ্যে ইন্টিগ্রেটেড হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (আই.এইচ.এম.আই. সিস্টেম)-কে বিভিন্ন সরকারি হেলথ পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল হেলথ ক্লেইম এক্সচেঞ্জ আগামী দিনে সমস্ত পিএম-জেএওয়াই এবং সিএম-জেএওয়াই ভুক্ত সরকারি হাসপাতালগুলিতে চালু করা হবে। যারফলে দ্রুত, কাগজবিহীন এবং সহজ উপায়ে স্বাস্থ্য বীমার সুযোগ লাভ করা সম্ভব হবে।
সভায় ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি-এর যুগ্ম সচিব কিরণ গোপাল ভি. দেশে আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশন বাস্তবায়ন সম্পর্কে একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশন সারা দেশে চালু হয়ে গেলে রোগীদের চিকিৎসা নথিপত্র সহজে যেকোনও স্থানে ব্যবহার করা যাবে। এরফলে একই পরীক্ষা বারবার করার প্রয়োজনীয়তা থাকবে না, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা কার্যক্রম দ্রুত করা সম্ভব হবে এবং আর্থিক ব্যয়ও হ্রাস পাবে।



















