আগরতলা, ৯ জুলাই: টানা ভারী বর্ষণের জেরে ত্রিপুরার বিভিন্ন জেলায় বন্যা, ভূমিধস এবং বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজ্য জরুরি পরিচালন কেন্দ্র -এর প্রকাশিত দৈনিক পরিস্থিতি প্রতিবেদনে জানা গেছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মোট ৭৮টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। সেখানে ২,৭৮৭টি পরিবারের মোট ১০,৯০৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টিতে এখন পর্যন্ত মোট ৮৬২টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৬৪টি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত, ৯৩টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৭১৭ টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানি বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি। বৈদ্যুতিক খুঁটি বা স্কুল ভবনেরও উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের পর প্রদান করা হবে।
উত্তর ত্রিপুরা জেলার কাঞ্চনপুরে একটি শরণার্থী শিবির খোলা হয়েছে। সেই শিবিরে ২৫ পরিবারের ৮০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। ঊনকোটি জেলায় মোট ৩৫টি শরণার্থী শিবির খোলা হয়েছে। তার মধ্যে কুমারঘাট মহকুমায় ২৩ টি শিবির রয়েছে। স্বেতিশটি শিবিরে ৬৬১ টি পরিবারের ২৭২৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
অন্যদিকে কৈলাশহর মহকুমায় ১২টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। বারটি শিবিরে ৭৫৪ পরিবারের ৩৩৪১ জন সদস্য আশ্রয় নিয়েছেন। অর্থাৎ মোট ৪৭টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে ঊনকোটি জেলায়। এই শিবিরগুলিতে প্রায় ১,৪১৫টি পরিবারের ৬,৬৬৮ জন আশ্রয় নিয়েছেন। ধলাই জেলার লংতরাইভ্যালি মহকুমায় ২০টি ত্রাণ শিবিরে প্রায় ৫০০টি পরিবারের ১,৮৩৯ জন এবং কমলপুর মহকুমায় আরও কয়েকটি ত্রাণ শিবিরে ২৩টি পরিবারের ৭৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন। লংতরাই ভ্যালিতে ৬৪টি বাড়ি সম্পূর্ণ, ৮৫টি মারাত্মক এবং ৫৮২টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমবাসায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩টি বাড়ি এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২০টি বাড়ি। গন্ডাতুইসাতে মারাত্মভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬২টি বাড়ি। প্রতিটি ক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হচ্ছে।
খোয়াই জেলায় তেলিয়ামুড়া ও খোয়াই মহকুমা মিলিয়ে ২২টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। তেলিয়ামুড়া ২০ টি শরণার্থী শিবিরে ৭৩৪ পরিবারের ২৫১২ জন আশ্রয় নিয়েছেন। খোয়াইয়ের দুটি শরণার্থী শিবিরে এ ৯০ পরিবারের ৩৩২ জন আশ্রয় নিয়েছেন। খোয়াই জেলার নাটুনছড়া-দাসগরিয়া সড়ক এবং তেলিয়ামুড়ার মুঙ্গিয়াকামী এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন দ্রুত রাস্তা পরিষ্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে। এছাড়া মুঙ্গিয়াকামী এলাকায় ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার মোহনপুর মহকুমায় ৪১টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২টি বাড়ি মারাত্মক এবং ৩৯টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গোমতী জেলার করবুক মহকুমার তীর্থমুখ-নূনছড়া সড়কে ভূমিধসের ফলে যান চলাচল ব্যাহত হলেও স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাস্তা দ্রুত পরিষ্কার করা হয়েছে।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসন, এসডিআরএফ, পুলিশ, দমকল এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের কাজ চলছে এবং পরিস্থিতির উপর রাজ্য প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।



















