নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ জুলাই: আইজিজিএল -এর একটি নির্মাণ প্রকল্পের জন্য নির্মাণ সামগ্রী বহনকারী একটি ট্রাক আটকে চালক ও তাঁর সহকারীদের ওপর রাতভর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তির স্থানীয় সোনালী সংঘ ক্লাব এবং ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। আরও গুরুতর অভিযোগ, ঘটনাস্থলে উপস্থিত শ্রীনগর থানার এক পুলিশ আধিকারিকের সামনেই এই ঘটনা ঘটলেও তিনি কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। ঘটনাটি গত ২ জুলাই গভীর রাতে মলয়নগর সংলগ্ন সোনালী সংঘ ক্লাবের সামনে ঘটে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তারা একটি ১৪ চাকার ট্রাকে করে জম্পুইজলা হয়ে
আঠারোকাট এলাকায় আইজিজিএল-এর নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ব্লক নিয়ে যাচ্ছিলেন। চম্পকনগর এলাকায় পৌঁছে জানতে পারেন, সামনের একটি সেতুর ধারণক্ষমতা মাত্র ১৪ টন। ট্রাকটির ওজন বেশি হওয়ায় ওই সেতু দিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। ফলে তারা বিকল্প পথ হিসেবে খয়েরপুর হয়ে মলয়নগর বাইপাস দিয়ে টাকারজলার দিকে রওনা দেন।
অভিযোগ, রাত প্রায় সাড়ে ১১টা নাগাদ মলয়নগর এলাকায় পুলিশ ট্রাকটি থামিয়ে তল্লাশি চালায়। তবে কোনও অবৈধ বা সন্দেহজনক সামগ্রী না পাওয়ায় ট্রাকটি ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর ট্রাকটি সোনালী সংঘ ক্লাবের সামনে পৌঁছালে শ্রীনগর থানার এএসআই সীমা দাস সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ওই পুলিশ আধিকারিকের উপস্থিতিতেই ক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক ট্রাকটিকে ক্লাব চত্বরে নিয়ে যান। চালকের অভিযোগ, গাড়িতে যদি কোনও বেআইনি জিনিস থাকার সন্দেহ থাকত, তাহলে পুলিশ নিয়ম মেনে থানায় নিয়ে গিয়ে তল্লাশি করতে পারত। কিন্তু তা না করে ট্রাকটিকে ক্লাবের ভেতরে আটকে রাখা হয়।
চালকের আরও অভিযোগ, ক্লাব চত্বরে নিয়ে যাওয়ার পর এএসআই সীমা দাসের সামনেই তাঁদের ওপর চড়াও হয় কয়েকজন। চালক ও তাঁর সহকারীদের মারধর করা হয় এবং রাতভর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। চড়-থাপ্পড়ের পাশাপাশি তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ।
এতেই শেষ নয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পরদিন সকালে ক্লাবের লোকজন ট্রাকে থাকা নির্মাণ সামগ্রী জোর করে নামিয়ে ফেলেন। তড়িঘড়ি করে ব্লক আনলোড করার সময় বিপুল পরিমাণ ব্লক ভেঙে যায়, যার ফলে নির্মাণ সামগ্রীর মালিকের উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত নির্মাণ সামগ্রীর মালিকের বক্তব্য, এই ঘটনার ফলে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। একইসঙ্গে চালক ও সহকারীদের ওপর যে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে, তারও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।



















