চণ্ডীগড়, ৯ জুলাই (আইএএনএস): ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তির কয়েক দিনের মধ্যেই সরিয়ে নেওয়া দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত চলচ্চিত্র ‘সতলুজ’ পুনরায় প্রদর্শনের দাবিতে বৃহস্পতিবার পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) দায়ের করা হয়েছে।
আবেদনকারী শরওয়ান সিং তাঁর আবেদনে কেন্দ্র সরকার, কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র শংসাপত্র বোর্ড (সিবিএফসি), পঞ্জাব সরকার, জি এন্টারটেইনমেন্ট এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড এবং জি৫-কে বিবাদী করেছেন।
আবেদনে দাবি করা হয়েছে, পঞ্জাবে সন্ত্রাসবাদ দমনের সময় মানবাধিকার কর্মী জসওয়ন্ত সিং খালরার নিখোঁজের অভিযোগ তদন্তের প্রচেষ্টার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি কোনও প্রকাশ্য আইনি বা আদালতের নির্দেশ ছাড়াই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি সংবিধানপ্রদত্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নাগরিকদের তথ্য জানার অধিকারের পরিপন্থী।
পিআইএলে বলা হয়েছে, কোনও আইনগত নির্দেশ, আদালতের আদেশ বা বৈধ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত প্রকাশ না করেই ছবিটি সরিয়ে দেওয়ায় সংবিধানের ১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়েছে। পাশাপাশি যাঁরা অর্থের বিনিময়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের গ্রাহক হয়েছেন, তাঁরাও তাঁদের প্রাপ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ঐতিহাসিক ঘটনা এবং মানবাধিকার কর্মী জসওয়ন্ত সিং খালরার জীবনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্বচ্ছতা, শিল্পীসত্তার স্বাধীনতা এবং সম্ভাব্য প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, শিরোমণি আকালি দল (এসএডি) ঘোষণা করেছে, তারা গোটা পঞ্জাবে ‘সতলুজ’ ছবির প্রদর্শনের ব্যবস্থা করবে। দলের সভাপতি সুখবীর সিং বাদল বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে জসওয়ন্ত সিং খালরা এবং ভুয়ো সংঘর্ষে নিহত হাজার হাজার নিরীহ শিখ যুবকের ইতিহাস তুলে ধরাই তাদের উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টু জানিয়েছেন, ছবিটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরানোর জন্য বিজেপি বা কেন্দ্র সরকারকে দায়ী করার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর দাবি, প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে সিবিএফসি-র নিয়ম প্রযোজ্য হলেও ওটিটি বা স্যাটেলাইট সম্প্রচারের জন্য পৃথক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা রয়েছে। তাই ‘সতলুজ’ সরিয়ে দেওয়ার সঙ্গে কেন্দ্র সরকারের কোনও আইনি বা বাস্তব সম্পর্ক নেই বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।


















