শিলং, ৯ জুলাই (আইএএনএস): মেঘালয়ের দক্ষিণ গারো হিলস জেলার বাঘমারা সিভিল হাসপাতালের চলমান ও প্রস্তাবিত পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে. সাংমা। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, জেলার মানুষের জন্য উন্নত ও নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করতে এই প্রকল্পগুলিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, হাসপাতালের উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে কোনও বিলম্ব ছাড়াই কাজ শেষ করতে হবে। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা এবং নার্স ও প্যারামেডিক্যাল কর্মীর সংখ্যা বাড়ানোরও নির্দেশ দেন তিনি।
সরকারি আধিকারিকরা জানান, ২০২৫ সালে চালু হওয়া হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে ইতিমধ্যেই ৮৫টি অস্ত্রোপচার হয়েছে, যার মধ্যে ৪২টি ছিল সিজারিয়ান প্রসব।
এছাড়া ২০২৫ সালে হাসপাতালে ২০,১০৮ জন বহির্বিভাগের (ওপিডি) রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ২,৩৩৪ জন ভর্তি হয়েছেন। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই আরও ১০,১৪৩ জন বহির্বিভাগের রোগী পরিষেবা গ্রহণ করেছেন, যা হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বর্তমানে হাসপাতালে জরুরি প্রসূতি পরিষেবা, সিজারিয়ান অপারেশন এবং সন্তান প্রসবের আগে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের থাকার জন্য একটি ট্রানজিট হোমের সুবিধাও রয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রায় ১১.৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি বড় পরিকাঠামো প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবায়ন বা দরপত্রের পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুরনো কমিউনিটি হেলথ সেন্টার ভবনের সংস্কার, একটি ওভারহেড জলাধার নির্মাণ, স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ২৫টি আবাসনের সংস্কার এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৭০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ।
এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ), ব্লাড ব্যাঙ্ক, অন্তঃসত্ত্বাদের ট্রানজিট হোম সম্প্রসারণ এবং ৫০ শয্যার মা ও শিশু স্বাস্থ্য বিভাগ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করেন।
তিনি চোকপট কমিউনিটি হেলথ সেন্টারকে উন্নীত করে একটি ফার্স্ট রেফারাল ইউনিট (এফআরইউ)-এ রূপান্তরের প্রস্তাবও খতিয়ে দেখেন। সেখানে জরুরি প্রসূতি ও নবজাতক পরিষেবা, রক্ত সংরক্ষণ ইউনিট, নবজাতক স্থিতিশীলকরণ ইউনিট এবং ২৪ ঘণ্টার রেফারাল পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সরকারের এই বিনিয়োগের সুফল যেন দক্ষিণ গারো হিলসের সাধারণ মানুষ সহজেই পান এবং উন্নতমানের স্বাস্থ্য পরিষেবা তাঁদের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়, সেটাই সরকারের মূল লক্ষ্য।


















