তেলিয়ামুড়া, ৯ জুলাই: টানা প্রায় ৭২ ঘণ্টার অবিরাম বর্ষণে তেলিয়ামুড়া মহকুমার অন্যতম কৃষিপ্রধান এলাকা বাইশঘড়িয়া গ্রাম কার্যত বন্যার কবলে পড়েছে। বিস্তীর্ণ কৃষিজমি এখন জলমগ্ন। মাঠের পর মাঠ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বছরের পর বছর ধরে কৃষকদের পরিশ্রম, ঘাম ও স্বপ্ন এক নিমেষে ভেসে গেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন এলাকার শতাধিক সবজি চাষি।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, আকস্মিকভাবে বন্যার জল কৃষিজমিতে ঢুকে পড়ায় করলা, ঝিঙে, মরিচ, শশা-সহ বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি সবজির চাষ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকদিন আগেও যে জমিগুলো সবুজে ভরে ছিল, সেখানে এখন শুধু থইথই পানি। ফলে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। অনেক কৃষক জানান, চাষের জন্য ঋণ নিয়ে বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ কিনেছিলেন। কিন্তু বন্যায় সমস্ত ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন সেই ঋণ পরিশোধ তো দূরের কথা, পরিবারের দৈনন্দিন খরচ চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। অথচ স্থায়ী জলনিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তোলা কিংবা বন্যা মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশাসনের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বছরের পর বছর একইভাবে ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান এখনও অধরাই রয়ে গেছে বলে দাবি তাঁদের।
এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটাই দাবি—অবিলম্বে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়ন করে সরকারি ক্ষতিপূরণ প্রদান, কৃষিঋণে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা এবং পুনরায় চাষ শুরু করার জন্য বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হোক। অন্যথায় বহু কৃষক বাধ্য হয়ে কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
প্রকৃতির এই তাণ্ডব শুধু কৃষিজমির ফসলই ধ্বংস করেনি, অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে বহু কৃষক পরিবারের ভবিষ্যৎকেও। এখন নজর প্রশাসনের দিকে—ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরির মধ্যেই দায়িত্ব সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বাস্তবিক অর্থে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।



















