নয়াদিল্লি, ৩০ জুন (আইএএনএস): ভারতের আর্থিক ব্যবস্থা দেশের প্রকৃত অর্থনীতি এবং প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। ব্যাঙ্ক ও নন-ব্যাঙ্কিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির (এনবিএফসি) শক্তিশালী মূলধন, পর্যাপ্ত তারল্য, স্বাস্থ্যকর মুনাফা, কম অনুৎপাদক সম্পদ (এনপিএ) এবং ঋণ বৃদ্ধির ধারাবাহিকতার কারণে দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা অত্যন্ত মজবুত অবস্থানে রয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন সঞ্জয় মালহোত্রা।
ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (আরবিআই)-এর ‘ফিনান্সিয়াল স্টেবিলিটি রিপোর্ট’-এর ভূমিকায় সঞ্জয় মালহোত্রা বলেন, “বড় ধরনের বৈশ্বিক ধাক্কার মুখেও ভারতের অর্থনীতি ও আর্থিক ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্য স্থিতিস্থাপকতার পরিচয় দিয়েছে। শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নিম্ন মূল্যস্ফীতি, আর্থিক ও অ-আর্থিক সংস্থাগুলির সুস্থ ব্যালান্স শিট এবং পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা সামষ্টিক আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করেছে।”
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের শক্তিশালী সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভিত্তি অনেক সমপর্যায়ের দেশের তুলনায় দেশকে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে এবং অতীতের সংকটগুলির তুলনায় বহিরাগত ধাক্কা মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি এবং মূলধন প্রবাহ বাড়াতে কেন্দ্র সরকার ও আরবিআইয়ের সাম্প্রতিক নীতিগত পদক্ষেপের ফলে ঝুঁকির ভারসাম্য এখন ইতিবাচক দিকে ঝুঁকেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের আর্থিক ব্যবস্থা এখনও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। নির্ধারিত বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলি (এসসিবি) পর্যাপ্ত মূলধন ও তারল্য, সম্পদের গুণগত মানের উন্নতি এবং স্থিতিশীল মুনাফার কারণে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে।
ম্যাক্রো স্ট্রেস টেস্টে দেখা গিয়েছে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা সম্ভাব্য ধাক্কা সামাল দেওয়ার মতো সক্ষম। এমনকি কঠিন পরিস্থিতির কাল্পনিক হিসাবেও ব্যাঙ্কগুলির সম্মিলিত মূলধন অনুপাত নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত ন্যূনতম সীমার অনেক উপরে থাকবে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, শক্তিশালী মূলধন, ভালো মুনাফা এবং সম্পদের মানের উন্নতির ফলে নন-ব্যাঙ্কিং আর্থিক সংস্থাগুলিও (এনবিএফসি) আর্থিকভাবে সুস্থ অবস্থানে রয়েছে।
এছাড়া জীবন বিমা সংস্থাগুলির সলভেন্সি অনুপাত নির্ধারিত ন্যূনতম সীমার উপরে থাকায় বিমা খাতের আর্থিক স্থিতিও শক্তিশালী রয়েছে।
তবে সঞ্জয় মালহোত্রা সতর্ক করে বলেন, “দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে পরিবর্তনশীল ঝুঁকির উপর আমরা সতর্ক নজর রাখছি এবং সম্ভাব্য ধাক্কা থেকে অর্থনীতি ও আর্থিক ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের অনিশ্চয়তা আর্থিক পরিস্থিতিকে কঠোর করতে পারে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ ফের বাড়িয়ে তুলতে পারে। পাশাপাশি উচ্চ সরকারি ঋণ, বন্ড বাজারের দুর্বলতা, সম্পদের অতিমূল্যায়ন এবং অতিরিক্ত ঋণনির্ভর নন-ব্যাঙ্কিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।























