কাবুল, ২৯ জুন (আইএএনএস): আফগানিস্তানের পাকতিকা, পাকতিয়া ও কুনার প্রদেশের বেসামরিক এলাকায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ফের বিমান হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তালিবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সোমবার দাবি করেছেন, এই হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু সাধারণ নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে মুজাহিদ জানান, রবিবার রাতে পাকতিকা প্রদেশের গায়ান জেলা, পাকতিয়া প্রদেশের সামকানি জেলা এবং কুনার প্রদেশের মানোগাই জেলায় এই বিমান হামলা চালানো হয়।
তিনি বলেন, “গত রাতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আবারও আফগানিস্তানের বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু সাধারণ নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন। আমরা এই কাপুরুষোচিত আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং এটিকে অপরাধ ও নৃশংসতার সামিল বলে মনে করি।”
গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা ক্রমশ বেড়েছে। দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে, যার জেরে সাধারণ মানুষের হতাহতের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত জালমে খলিলজাদও এই হামলার নিন্দা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক মহল এবং পাকিস্তানের বহু মানুষের আলোচনার আহ্বান উপেক্ষা করে ইসলামাবাদ আবারও সামরিক পদক্ষেপের পথ বেছে নিয়েছে, যার ফলে নিরীহ আফগান নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটেছে।
এক্স-এ খলিলজাদ লেখেন, “পার্থক্য মেটাতে আলোচনার আহ্বান উপেক্ষা করে পাকিস্তান আবারও আফগানিস্তানে হামলা চালিয়েছে। আমি অতীতেও নিরীহ আফগানদের হত্যার নিন্দা করেছি, আজও করছি। তালিবান সরকার যেসব প্রস্তাবে সম্মতির কথা জানিয়েছে, সেগুলির কোনও ইতিবাচক জবাব ইসলামাবাদ দেয়নি।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, পাকিস্তান আদৌ কোনও সমঝোতা চায় কি না। তাঁর দাবি, যদি পাকিস্তানের প্রকৃত উদ্দেশ্য আফগানিস্তানকে অস্থিতিশীল রাখা বা সেখানে চিনের প্রভাব বাড়ানোর পরিবেশ তৈরি করা হয়, তবে তা মার্কিন স্বার্থেরও পরিপন্থী হবে। কারণ এতে আইএসআইএস-খোরাসানের (আইএসআইএস-কে) মতো জঙ্গিগোষ্ঠীর নিরাপদ আশ্রয় তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে এবং আফগানিস্তানে চিনের প্রভাবও আরও বিস্তৃত হতে পারে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে আফগানিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক কাবুলে নিযুক্ত পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করে আফগান আকাশসীমা লঙ্ঘন এবং আবাসিক এলাকায় বিমান হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
তালিবানের দাবি অনুযায়ী, ৯ জুন রাতে কুনার, খোস্ত ও পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ১১ জন শিশু, এক নারী এবং এক প্রবীণ ব্যক্তি নিহত হন। এছাড়া আরও ১৪ জন নারী ও শিশু আহত হন বলে অভিযোগ।
























