নয়াদিল্লি, ১৪ আগস্ট (আইএএনএস): আন্তর্জাতিক মাদক পাচারের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল দিল্লি পুলিশ। ভারত-নেপাল সীমান্তকেন্দ্রিক একটি মাদকচক্রের হদিস পেয়ে ১০৬.২৫০ কেজি উচ্চমানের চরস উদ্ধার করেছে দিল্লি পুলিশের সাউথ ডিস্ট্রিক্টের স্পেশাল স্টাফ। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। ঘটনায় চার নেপালি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, প্রযুক্তিগত নজরদারি, মাঠপর্যায়ে যাচাই এবং সমন্বিত অভিযানের পর এই সাফল্য এসেছে। তদন্তের শুরুতে তিনজন মাদক সরবরাহকারীকে গ্রেফতার করার পর তাঁদের সূত্র ধরে দিল্লিতে মাদক মজুত ও সরবরাহের একটি বড় কেন্দ্রের সন্ধান মেলে।
পুলিশের দাবি, চক্রটি নেপাল থেকে চরস সংগ্রহ করে সীমান্ত পেরিয়ে দিল্লি-এ নিয়ে আসত। এরপর বিভিন্ন জায়গায় মজুত করে তা স্থানীয় সরবরাহকারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হত।
গত ২৯ জুন নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কোটলা মুবারকপুরের একটি বাড়িতে অভিযান চালায় স্পেশাল স্টাফ। সেখান থেকে ভারত থাপা (৩২), গোবিন্দ বুধা (৩২) এবং জ্যোতি পুন মাগর (৫০)-কে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ৮.৫৯৮ কেজি চরস উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় কোটলা মুবারকপুর থানায় এনডিপিএস আইনের ২০, ২৫ ও ২৯ ধারায় এফআইআর নং ১২৯/২০২৬ দায়ের করা হয়।
এরপর ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ, প্রযুক্তিগত নজরদারি, আর্থিক লেনদেনের বিশ্লেষণ এবং স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা রোশনি মাগরের সন্ধান পান। পুলিশের দাবি, তিনি দিল্লির ওয়াজিরাবাদ এলাকায় মাদক মজুত ও সরবরাহের একটি বড় কেন্দ্র পরিচালনা করছিলেন।
১২ আগস্ট চিহ্নিত ঠিকানায় অভিযান চালিয়ে ৩২ বছর বয়সি নেপালি নাগরিক রোশনি মাগরকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ১৩টি প্লাস্টিকের ব্যাগে রাখা ৯৭.৬৫২ কেজি উচ্চমানের চরস উদ্ধার হয়। পাশাপাশি মাদক মেশানোর একটি মেশিন এবং প্যাকেজিং সামগ্রীও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
এই দুটি অভিযানে মোট উদ্ধার হওয়া চরসের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০৬.২৫০ কেজি। পুলিশের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে সাউথ ডিস্ট্রিক্টে চরস উদ্ধারের অন্যতম বড় ঘটনা এটি। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০৯ কোটি টাকা।
জিজ্ঞাসাবাদে রোশনি মাগর নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি। তদন্তকারীদের মতে, জুনে তিন অভিযুক্ত গ্রেফতার হওয়ার পর রোশনি নেপালে ফিরে গিয়েছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে মনে করে সম্প্রতি ফের ভারতে এসে তিনি আবার মাদক সংক্রান্ত কার্যকলাপ শুরু করেছিলেন বলে অভিযোগ।
তদন্তে আরও জানা গেছে, সোনাৌলি সংলগ্ন ভারত-নেপাল সীমান্ত এলাকার একটি নেপালভিত্তিক সরবরাহ নেটওয়ার্ক থেকে চরস সংগ্রহ করা হত। পরে সড়কপথে তা দিল্লিতে নিয়ে এসে বিভিন্ন জায়গায় মজুত করা হত। পুলিশের অনুমান, নজরদারি এড়াতে মূলত সড়কপথ ব্যবহার করত চক্রটি।
মাদক অর্ডার এবং সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা হত বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। লেনদেনে নগদ অর্থের পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি। তরুণদের মধ্যে মাদকের চাহিদা রয়েছে এমন এলাকাগুলিকে লক্ষ্য করে অটো এবং বাইক-ট্যাক্সির মাধ্যমে মাদক পৌঁছে দেওয়া হত বলে অভিযোগ।
পুলিশের তদন্তে দিল্লির ওয়াজিরাবাদ ও মজনু কা টিলা এলাকাকে মাদকের চাহিদার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই এলাকাগুলিতে থাকা পাব, বার ও হোটেলকেন্দ্রিক স্থানীয় সরবরাহকারী ও ক্রেতাদের কাছে মাদক পৌঁছে দেওয়া হত বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।
তদন্তে বিনমায়া নামে এক নেপালি নাগরিকের নামও উঠে এসেছে। পুলিশের সন্দেহ, সোনাৌলি সীমান্ত এলাকা থেকে দিল্লিতে চরস পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতেন তিনি। হরি নামে আরও এক নেপালি নাগরিকের নামও সরবরাহকারী হিসেবে উঠে এসেছে। তাঁদের ভূমিকা, অবস্থান এবং মাদকচক্রের আর্থিক লেনদেনের সূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার চারজনের কারও বিরুদ্ধেই আগে কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড পাওয়া যায়নি। চক্রের আরও সদস্য, নেপালভিত্তিক সরবরাহকারী, স্থানীয় ডিস্ট্রিবিউটর এবং আর্থিক লেনদেনের সূত্র খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।
























