ঢাকা, ২৯ জুন (আইএএনএস বাংলা): বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ দাবি করেছে, দলটির ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীকে হত্যা করে তাঁদের দেহ ঢাকার তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশ পুলিশ এই অভিযোগকে “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন” বলে দাবি করেছে এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো তথ্যকে গুজব বলে উল্লেখ করেছে।
আওয়ামী লীগ তাদের সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, তুরাগ নদী থেকে একের পর এক পচাগলা ও আংশিক পচাগলা দেহ উদ্ধারের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দলের দাবি, তুরাগ এখন “নতুন কারবালা”-র প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের অভিযোগ, নিহতরা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মী হওয়ার কারণেই তাঁদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
দলটি প্রশ্ন তোলে, “একটি মৃতদেহের কি কোনও রাজনৈতিক পরিচয় থাকে? কোনও রাজনৈতিক কর্মীর কি স্বাভাবিক ও নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নেই?”
আওয়ামী লীগের আরও দাবি, গত দুই বছরে শুধুমাত্র রাজনৈতিক মতাদর্শ ও পরিচয়ের কারণে প্রকাশ্যে তাদের বহু নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এর ফলে গোটা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হয়েছে।
দলটির আরও অভিযোগ, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই ৬০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি খুন, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এবং বাড়িতে ঢুকে হামলার মতো অপরাধ প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, ফ্রান্সভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশ ইন ফ্রান্স (জেএমবিএফ) এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরপেক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহানুর ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক বিশ্বাস বা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের কারণে কাউকে নির্যাতন, হত্যা এবং নদীতে দেহ ফেলে দেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তিনি বলেন, যদি স্বাধীন তদন্তে এই অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে এবং সরকারকে তার সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করতে হবে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে “তুরাগ নদীতে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সাত নেতা-কর্মীর দেহ ভাসছে”—এই শিরোনামে যে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তার কোনও সত্যতা নেই।
বাংলাদেশের দৈনিক প্রথম আলো-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, “সামাজিক মাধ্যমে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাস্তবে এ ধরনের কোনও ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সবাইকে এই ধরনের মিথ্যা প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে দল এবং ছাত্রলীগের উদ্যোগে মিছিল বের করার চেষ্টা করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাধা দেয়। রাজধানী-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকজনকে আটকও করা হয়।
এরপরই আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের পেজ ও প্রোফাইলে দাবি করা হয়, মিছিল থেকে সাতজন কর্মীকে আটক করে হত্যা করা হয়েছে এবং তাঁদের দেহ তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনও যাচাই এখনও সামনে আসেনি।



















