লন্ডন/নয়াদিল্লি, ২৮ জুন (আইএএনএস): আগামী ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হতে চলা ভারত-যুক্তরাজ্য সমন্বিত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে আরও গভীর করবে এবং উভয় দেশের যৌথ সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল।
লন্ডনে ভারতীয় প্রবাসী এবং ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে মতবিনিময় করে গোয়েল বলেন, ভারতীয় প্রবাসীরা ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং জন-জনের সম্পর্কের এক জীবন্ত সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ তিনি লেখেন, ভারত-যুক্তরাজ্য সিইটিএ কার্যকর হওয়ার ফলে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের নতুন সুযোগ তৈরি হবে, যা দুই দেশের জন্যই লাভজনক হবে।
এছাড়া তিনি যুক্তরাজ্যে আইসিএআই চ্যাপ্টারের সদস্যদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে তিনি বলেন, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের ভূমিকা ভারত-যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ। সিইটিএ-র ফলে পেশাজীবীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং তাঁদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এই সুযোগের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করার আহ্বান জানান।
গোয়েলের সঙ্গে ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ারউইক ম্যানুফ্যাকচারিং গ্রুপের ‘হেড অব সেফ অটোনমি’ অধ্যাপক সিদ্ধার্থ খাস্তগীরেরও বৈঠক হয়। সেখানে শিল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং গবেষণাভিত্তিক উদ্ভাবন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, শক্তিশালী উদ্ভাবনী পরিবেশ নতুন ধারণার বিকাশ, আন্তর্জাতিক মানের শিল্প গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এছাড়া জিইডিইউ গ্লোবাল এডুকেশন-এর গ্রুপ সিইও ড. বিশ্বজিৎ রানার সঙ্গেও বৈঠক করেন গোয়েল। উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ভারত-যুক্তরাজ্য সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সিইটিএ-কে কাজে লাগিয়ে শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার বিষয়েও মতবিনিময় করেন তাঁরা।
এর আগে লন্ডনে ‘ইন্ডিয়া-ইউকে: পার্টনার্স ইন প্রোগ্রেস বিজনেস প্লেনারি’-তে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গোয়েল ভারতীয় সংস্থাগুলিকে যুক্তরাজ্যের অংশীদারদের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, ভারত-যুক্তরাজ্য সিইটিএ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি সহযোগিতা, উদ্ভাবন এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এনে দেবে।
______


















