মুম্বই, ২৮ জুন (আইএএনএস): সঞ্জয় লীলা বনশালি পরিচালিত আসন্ন ছবি ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’-এর শুটিং সেটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কার্পেন্টার চন্দ্রধারী সিং যাদবের মৃত্যুর ঘটনায় কড়া নিরাপত্তা বিধি এবং কর্মীদের জন্য উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানাল ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ (এফডব্লিউআইসিই)।
সংগঠনের সভাপতি বি এন তিওয়ারি জানান, দুর্ঘটনায় মৃত কর্মীর পরিবারকে সঞ্জয় লীলা বনশালির প্রযোজনা সংস্থা ৪০ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে মৃত কর্মীর বয়স ৪২ বছর এবং তিনিই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হওয়ায় ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ৫০ লক্ষ টাকা করার দাবি জানিয়েছে এফডব্লিউআইসিই। যদিও এই দাবির বিষয়ে এখনও প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
আইএএনএস-কে তিওয়ারি বলেন, “‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’-এর সেটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আমাদের এক টেকনিশিয়ানের মৃত্যু হয়েছে। ৪০ লক্ষ টাকা সাহায্য অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। কিন্তু আমরা প্রযোজনা সংস্থাকে ৫০ লক্ষ টাকা দেওয়ার অনুরোধ করেছি, কারণ তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও উত্তর পাইনি।”
তিনি আরও বলেন, তাঁদের প্রধান উদ্বেগ শুধু ক্ষতিপূরণ নয়, কর্মীদের নিরাপত্তা ও কাজের পরিবেশ নিয়েও। তাঁর অভিযোগ, নির্ধারিত সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার পরিবর্তে বহু ক্ষেত্রে কর্মীদের ১৬ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করানো হচ্ছে।
তিওয়ারি স্পষ্ট করে বলেন, এই সমস্যা শুধু সঞ্জয় লীলা বনশালির সেটে সীমাবদ্ধ নয়। টেলিভিশন ধারাবাহিক, ওয়েব সিরিজ এবং অন্যান্য শুটিং সেটেও একই ধরনের পরিস্থিতি রয়েছে।
তিনি বলেন, “এটা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের ফেডারেশন এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। কোনও সেটেই কর্মীদের দাসের মতো কাজ করানো চলবে না। আমরা শুটিং বন্ধ করতে চাই না, কিন্তু কর্মী, টেকনিশিয়ান এবং শিল্পীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই।”
এফডব্লিউআইসিই-র সভাপতি জানান, তাঁদের সংগঠন কোনও প্রযোজকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার পথে বিশ্বাসী নয়। আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে চায় তারা।
এদিকে, অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন (এআইসিডব্লিউএ) সম্প্রতি এই মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে বিভ্রান্তির প্রসঙ্গে তিওয়ারি বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী খোলা বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসেই ওই কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি জানান, “তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাঁর সঙ্গে একই বিভাগে আরও শ্রমিক, টেকনিশিয়ান, সাউন্ড রেকর্ডিস্ট এবং ক্যামেরাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর কথা উল্লেখ রয়েছে।”



















