আগরতলা, ২৭ জুন : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভোকাল ফর লোকাল এবং আত্মনির্ভর ভারত উদ্যোগকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যেই নয়াদিল্লিতে আয়োজন করা হয়েছে ত্রিপুরা গ্লোবাল পাইনঅ্যাপল ফেস্টিভ্যাল ২০২৬। এই উৎসবের মাধ্যমে ত্রিপুরার বিশ্ববিখ্যাত আনারসকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি রাজ্যের পর্যটন, সংস্কৃতি, বাঁশশিল্প ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রকে দেশ-বিদেশের প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।
শনিবার উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ত্রিপুরার কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতন লাল নাথ এই কথা বলেন বলেন।
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ( ডাঃ) মানিক সাহা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদারের উপস্থিতিতে এই উৎসবের সূচনা হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এর সুফল হিসেবে আজ ত্রিপুরার আনারস আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে। রাজ্যের অনুকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদিত কুইন ও কিউ জাতের আনারস দেশের অন্যতম সেরা বলে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে জনজাতি কৃষকদের চাষ করা কুইন জাতের আনারস ২০১৪ সালে জিআই ট্যাগ স্বীকৃতি লাভ করে এবং ২০১৮ সালে এটিকে ত্রিপুরার রাজ্য ফল হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
তিনি আরও জানান, কুইন আনারসের অসাধারণ মিষ্টতা, মনোমুগ্ধকর সুগন্ধ এবং দীর্ঘদিন সতেজ থাকার বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন।
রতন লাল নাথ জানান, ২০১৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৩ মেট্রিক টন আনারস দুবাই, কাতার, ওমান এবং বাংলাদেশে রপ্তানি করা হয়েছে। এছাড়া জার্মানি ও রাশিয়াতেও কনটেইনারে করে আনারস পাঠানো হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে আসাম, কর্ণাটক, পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি ও ওড়িশায় প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন আনারস সরবরাহ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কেন্দ্র সরকার ও ডোনার মন্ত্রকের সহায়তায়২৩৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কুইন আনারসের বিপণন, প্রক্রিয়াকরণ এবং মূল্য সংযোজনমূলক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
এছাড়াও আগরতলা ও গোমতী জেলায় দুটি ব্রোমেলিন নিষ্কাশন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্র থেকে বছরে ১২ থেকে ১৮ কোটি টাকা পর্যন্ত আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিন দিনব্যাপী এই উৎসবে প্রতিদিন ত্রিপুরার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও লোকশিল্পকে তুলে ধরে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।



















