মোরেনা, ২৭ জুন (আইএএনএস): মধ্যপ্রদেশের মোরেনা জেলায় এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রী ও দুই নাবালক ছেলেকে কুঠার দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ। শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি বা আর্থিক সমস্যার জেরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা হচ্ছে না।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে বাসাইয়া থানার অন্তর্গত কিষাণপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত বলরাম সিং কুশওয়াহা (৩৫) প্রথমে বাড়ির উঠোনে ঘুমিয়ে থাকা স্ত্রী রবিতা কুশওয়াহা (৩২)-কে কুঠার দিয়ে আঘাত করেন। এরপর তাঁদের দুই ছেলে—আট বছরের আরাভ এবং পাঁচ বছরের দেবুকেও একইভাবে আক্রমণ করেন। মাথায় একাধিক আঘাতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।
বাড়িটি চারদিক থেকে উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা থাকায় সারা রাত এই হত্যাকাণ্ড কারও নজরে আসেনি। শনিবার সকালে বাড়ির প্রধান ফটক বাইরে থেকে বন্ধ দেখে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে তাঁরা ভিতরে উঁকি দিয়ে তিনটি দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর বলরাম বাড়ি থেকে বেরিয়ে কাছের শিকারপুর রেলক্রসিংয়ে গিয়ে একটি চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন। পরে রেল কর্তৃপক্ষ রেললাইন থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশকে খবর দেয়।
বাসাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বিবেক তোমর জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে এবং প্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে।
ডেপুটি সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশ বিজয় ভাদোরিয়া জানান, ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী এবং অন্যান্য সাক্ষীদের বয়ানও রেকর্ড করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বলরাম বেঙ্গালুরুতে মার্বেল পালিশের কাজ করতেন এবং প্রায় এক মাস আগে গ্রামে ফিরেছিলেন। তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, ভাগবত কথা অনুষ্ঠানে তাঁর স্ত্রীর নাচের একটি হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও পাওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে অস্থির হয়ে পড়েছিলেন কি না।
পুলিশ জানিয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছিল। সেই কারণে কিছুদিন তাঁরা আলাদাও থাকছিলেন। রবিতা তিন দিন আগেই বাপের বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে ফিরেছিলেন।
তবে পুলিশ স্পষ্ট করেছে, এগুলি তদন্তের প্রাথমিক তথ্যমাত্র। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ফরেন্সিক পরীক্ষার ফল এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হওয়ার পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
























