আগরতলা, ২৬ জুন: আগরতলার রামনগর এলাকার একটি বহুতল আবাসনে সংঘটিত ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে টিএনজিসিএল -এর গাফিলতির ইঙ্গিত মিলেছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা। শুক্রবার দুপুরে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত বহুতল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং দুঃখজনক। বিস্ফোরণের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ হারানো শুভ্রজিৎ চৌধুরীর মৃত্যুতে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাসও দেন।
প্রাথমিক তদন্তের তথ্য তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট বহুতলে গ্যাস সংযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তদন্তে জানা গেছে, একটি স্থানে গ্যাসের পাইপ খোলা অবস্থায় ছিল। তাঁর দাবি, শুভ্রজিৎ চৌধুরী ধূপকাঠি জ্বালানোর সময় সেই গ্যাসে আগুন লেগে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে তাঁর শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে জিবিপি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজ্যের বাইরে পাঠানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। কার গাফিলতিতে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে। প্রাথমিকভাবে টিএনজিসিএল-এর অবহেলার বিষয়টি সামনে এলেও চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি। এছাড়াও বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত বহুতলের বাসিন্দাদের এবং মৃত শুভ্রজিৎ চৌধুরীর পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
রামনগর এলাকায় বিপুল সংখ্যক বহুতল আবাসন গড়ে ওঠার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রামনগর এলাকায় সবচেয়ে বেশি ফ্ল্যাট রয়েছে। তাই এই এলাকায় ফ্ল্যাট নির্মাণসহ বিভিন্ন বিষয়ে কিছু নির্দেশিকা থাকা প্রয়োজন। এ বিষয়টি রাজ্য সরকার গুরুত্ব সহকারে দেখছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বহুতল নির্মাণ, গ্যাস সংযোগ এবং বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নিরাপত্তা নির্দেশিকা প্রণয়নের প্রয়োজন রয়েছে। এ লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। পাশাপাশি এই বিস্ফোরণের ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হবে, যাতে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে রামনগরের একটি বহুতল আবাসনে আকস্মিক বিস্ফোরণে বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনায় শুভ্রজিৎ চৌধুরী গুরুতর দগ্ধ হন এবং পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। আরও একজন আহত ব্যক্তি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বহুতল পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।


















