নয়াদিল্লি, ২৬ জুন (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতে জঙ্গি সংগঠন ইমাম মাহমুদের কাফিলা (আইএমকে)-কে ফের সক্রিয় করার চেষ্টা চালাচ্ছে জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)। এই কার্যকলাপের ওপর নিবিড় নজর রাখছে ভারতের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, জেএমবি তাদের শাখা সংগঠন আইএমকে-কে পুনরুজ্জীবিত করে মূলত পশ্চিমবঙ্গ ও অসমকে লক্ষ্যবস্তু করতে চাইছে। অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর মুখে থাকা ব্যক্তিদের প্রভাবিত করে সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গোয়েন্দাদের দাবি, আইএমকের কার্যকলাপ সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে বেড়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালিয়ে নতুন সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় সংগঠনের নিয়োগকারীদের সক্রিয় করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। সেখানে নিয়োগ ও উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করার শিবির গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ।
সূত্রের দাবি, আইএমকে আবার তাদের পুরনো স্লোগান, ‘র্যাডিক্যালাইজেশন, রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড বায়াত (শপথ)’ অনুসরণ করছে। সদস্য সংগ্রহ ও উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে আল-কায়েদা এবং আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি)-র কিছু সদস্যের সহযোগিতা নেওয়ার চেষ্টাও চলছে বলে গোয়েন্দাদের ধারণা।
তবে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কড়া নজরদারি থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনও হামলার চেষ্টা সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সংগঠনটি তাদের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
গোয়েন্দাদের মতে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের পাশাপাশি ভারতীয় নাগরিকদেরও সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। জিহাদি প্রচারমাধ্যমের মাধ্যমে সম্ভাব্য সদস্যদের চিহ্নিত করে তাদের উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলির আশঙ্কা, বর্তমানে আইএমকের প্রধান লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গ ও অসম হলেও ভবিষ্যতে তারা ত্রিপুরাতেও তাদের কার্যকলাপ সম্প্রসারণের চেষ্টা করতে পারে। গোয়েন্দাদের মতে, ভারতকেন্দ্রিক জঙ্গি কার্যকলাপ পরিচালনার উদ্দেশ্যেই জেএমবি আইএমকে-কে গড়ে তুলেছিল এবং ভবিষ্যতেও এই সংগঠনকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।























