নয়াদিল্লি, ২৬ জুন (আইএএনএস): খাদ্য ব্যবসায়ীদের জন্য নিয়ন্ত্রক জটিলতা কমাতে এবং ব্যবসা পরিচালনা আরও সহজ করতে খাদ্য নিরাপত্তা ও মান (লাইসেন্সিং ও নিবন্ধন) বিধি, ২০১১-তে সংশোধন এনেছে কেন্দ্র সরকার। শুক্রবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক এই সংশোধিত নিয়মের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, উৎপাদন করে না এমন খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যেমন খুচরো বিক্রেতা ও অনুরূপ সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট নথি সংরক্ষণ এবং ‘ফার্স্ট ইন, ফার্স্ট আউট’ বা ‘ফার্স্ট এক্সপায়ারি, ফার্স্ট আউট’ পদ্ধতিতে মজুত ব্যবস্থাপনার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে লাইসেন্সপ্রাপ্ত সব ধরনের খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকেই এই নিয়ম মেনে চলতে হতো। তবে সংশোধিত বিধিতে এই শর্ত শুধুমাত্র খাদ্য উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির জন্য বহাল রাখা হয়েছে, কারণ খাদ্য নিরাপত্তা, গুণমান নিশ্চিতকরণ এবং পণ্যের উৎস শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মতে, এই পদক্ষেপে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাদ্য ব্যবসায়ীদের ওপর নিয়ন্ত্রক চাপ অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে যেখানে প্রয়োজন, সেখানে খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত নজরদারি আগের মতোই বজায় থাকবে।
মন্ত্রক জানিয়েছে, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ আরও সহজ করা এবং ঝুঁকিভিত্তিক ও ফলাফলমুখী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বৃহত্তর সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
গত কয়েক বছরে খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে একাধিক সংস্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্থায়ী লাইসেন্স ও নিবন্ধনের ব্যবস্থা, টার্নওভারের সীমা সংশোধন, পথের খাবার বিক্রেতাদের জন্য দ্বৈত নিয়মের অবসান এবং ঝুঁকিভিত্তিক পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করা।
মন্ত্রকের দাবি, রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং খাদ্য শিল্পের বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেই এই সংশোধন চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, নীতি আয়োগ গঠিত উচ্চপর্যায়ের অ-আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্কার কমিটির সুপারিশও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।
কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে, বৈজ্ঞানিক ভিত্তিক নীতি, অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ এবং ব্যবসাবান্ধব নিয়মের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।



















