ওয়াশিংটন, ২৫ জুন (আইএএনএস): যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দেশের বড় বড় তেল সংস্থাগুলি ভোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তাঁর প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও তার প্রতিফলন মার্কিন পেট্রল পাম্পগুলিতে দেখা যাচ্ছে না।
বুধবার হোয়াইট হাউসে মার্ক রুটে-র সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) খতিয়ে দেখছে তেল সংস্থাগুলি কম খরচের সুবিধা গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে কি না।
ট্রাম্প বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে পাম্পে জ্বালানির দাম আরও কম হওয়া উচিত ছিল। আমার মতে, প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম এখন ২.২৫ ডলারের কাছাকাছি হওয়া উচিত, কিন্তু বাস্তবে তা বেশি রয়েছে।”
তিনি বিশ্বের কয়েকটি বৃহৎ জ্বালানি সংস্থার নামও উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে এক্সনমোবিল।
ট্রাম্পের দাবি, অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও খুচরা বাজারে জ্বালানির মূল্য সেই অনুপাতে কমেনি। তিনি বলেন, “পাম্পে পেট্রলের দাম আরও অনেক কম হওয়া উচিত। তেল সংস্থাগুলি হয়তো ভোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করছে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি তদন্তে কোনও সংস্থার বিরুদ্ধে ভোক্তাদের শোষণের প্রমাণ মেলে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প জানান, তিনি তেল সংস্থাগুলির কর্তাদের স্পষ্টভাবে বলেছেন, “আমাদের জনগণের কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্য নেবেন না।”
জ্বালানির দাম কমলে সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয়ও হ্রাস পাবে বলে মত প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, “গতকাল ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে এসেছে। এটি একপ্রকার বন্যার মতো সরবরাহ। কিন্তু সেই অনুযায়ী দাম কমানো হচ্ছে না।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তাঁর প্রশাসন মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সফল হচ্ছে। তাঁর কথায়, “ডেমোক্র্যাটরা আমাদের জন্য বড় ধরনের মূল্যস্ফীতির সমস্যা রেখে গিয়েছিল, আর আমরা ধীরে ধীরে দাম কমিয়ে আনছি।”
আবাসন খাত নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি পুনরায় সুদের হার কমানোর পক্ষে সওয়াল করে বলেন, “আবাসন বাজারের মূল বিষয়ই হলো সুদের হার। সুদের হার কমলে বাড়ির বাজারে চাহিদা ও সরবরাহ দুটোই বাড়বে।”
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাড়ির মালিকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ না করেই আবাসন খাতকে আরও সাশ্রয়ী করতে হবে।
এদিকে, বর্তমানে তাঁর বিবেচনাধীন আবাসন-সংক্রান্ত আইন তিনি স্বাক্ষর করবেন না বলেও জানিয়েছেন। পরিবর্তে নির্বাচনী সংস্কার-সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দিতে চান বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদক দেশ। ফলে সেখানে জ্বালানির দামের ওঠানামা শুধু মার্কিন অর্থনীতিতেই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, পরিবহণ ব্যয়, উৎপাদন খরচ এবং মূল্যস্ফীতির ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।























