ঢাকা, ১০ আগস্ট (আইএএনএস): বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের সঙ্গে সোমবার ঢাকায় সাক্ষাৎ করলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। একইসঙ্গে জনকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিভিন্ন উপায় নিয়েও মতবিনিময় করেন তাঁরা।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন দীনেশ ত্রিবেদী। পাশাপাশি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার জন্য নয়াদিল্লির আগ্রহের কথাও জানান তিনি।
বৈঠকের পর ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন এক্স-এ জানায়, ‘‘হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ১০ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তিনি ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা জানান এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গিতে একসঙ্গে কাজ করার ভারতের আগ্রহের কথা জানান।’’
হাইকমিশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, দুই নেতা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন এবং জনকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন।
বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় আধ ঘণ্টার এই বৈঠক দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এর একদিন আগে, রবিবার ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তারিক রহমানকে ‘জনগণের মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, দুই নেতা বৈঠকে বসলে দুই দেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের পথ খুলে যেতে পারে।
ঢাকায় ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে (আইভিএসি) ‘চিলড্রেন প্লেয়িং এরিয়া’ উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘‘আমি তাঁর (প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের) অনেক বক্তব্য শুনেছি। তিনি জনগণের মানুষ। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও (নরেন্দ্র মোদি) জনগণের মানুষ। আমার মনে হয়, দুই নেতা যখন বৈঠকে বসেন, তখন অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। আমি সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী।’’
দুই দেশের মানুষের মধ্যে ঐক্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ত্রিবেদী। তাঁর কথায়, ‘‘আমি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। নেতিবাচক কিছু নেই। পরিস্থিতি ইতিবাচক রয়েছে।’’
এদিকে গত সপ্তাহে ভারত জানিয়েছিল, চলতি বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানকে আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরীয় বহুখাতীয় কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ বা বিমসটেকের সদস্য সাতটি দেশ হল বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার এবং থাইল্যান্ড। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশ—বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডকে যুক্ত করে এই জোট দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ তৈরি করেছে।
নয়াদিল্লিতে বিদেশ মন্ত্রকের দ্বি-সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পরই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, একইভাবে অন্যান্য আঞ্চলিক সংগঠনের প্রধানদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।



















