কাঠমান্ডু, ১০ আগস্ট (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার কোনও বিদেশি কূটনীতিকের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। সোমবার ভারতীয় রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তবের সঙ্গে এই বৈঠক করেন তিনি। গত ২৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে একান্ত বৈঠক না করার যে নীতি তিনি নিয়েছিলেন, এই সাক্ষাৎ তার ব্যতিক্রম।
অতীতে নেপালের প্রধানমন্ত্রীরা বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে নিয়মিত একান্ত বৈঠক করতেন। তবে এই রীতি নিয়ে সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের একাংশের সমালোচনা ছিল। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর শাহ একান্ত বৈঠক এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যদিও তিনি বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে একাধিক যৌথ বৈঠক করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় জানিয়েছে, সোমবার সিংহদরবারে নিজের দফতরে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তবের সঙ্গে বৈঠক করেন শাহ। বৈঠকে ভারত-নেপাল দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্ব, পারস্পরিক স্বার্থ, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব এবং সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সচিবালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রদূত শ্রীবাস্তব প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহকে অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে ভারতের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, শাহ নেপাল ও ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
সোমবারই পরে চীনা রাষ্ট্রদূত ঝাং মাওমিংয়ের সঙ্গেও শাহের পৃথক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মঙ্গলবার নেপালে মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স স্কট আরবমের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।
নেপালের দুই প্রতিবেশী দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে একই দিনে পৃথক বৈঠকের সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভারত ও চীন—দুই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেই সমান গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখার নেপালের অবস্থান স্পষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর কাঠমান্ডুভিত্তিক কোনও বিদেশি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এটিই শাহের প্রথম একান্ত সৌজন্য সাক্ষাৎ। এর আগে ৯ এপ্রিল এবং ২৬ মে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ না করে তাঁদের নিয়ে যৌথ বৈঠক করেছিলেন তিনি।
শাহের সেই সিদ্ধান্তকে নেপালের কূটনীতিক, বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞ এবং পর্যবেক্ষকদের একাংশ স্বাগত জানিয়েছিলেন। তাঁদের মতে, বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে যৌথ বৈঠক আরও স্বচ্ছ ও সমতাভিত্তিক কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রতিফলন।
তবে বিদেশি দেশগুলির সঙ্গে নেপালের যোগাযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সামনে আসায় এই নীতি দীর্ঘদিন বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠছিল। এর আগে জুলাইয়ের শুরুতে তিন দিনের নেপাল সফরে আসা এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দার সঙ্গেও বৈঠক করে নিজের ঘোষিত নীতি থেকে সরে এসেছিলেন শাহ।
এর আগে কাঠমান্ডুতে মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী বিদেশসচিব সমীর পল কাপুর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ করা হলেও শাহ তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বলে জানা যায়। গোর একইসঙ্গে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বেও রয়েছেন। মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট ফর পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি সারাহ বি. রজার্স নেপাল সফরে গেলেও শাহ তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি।
এমনকি মে মাসের শুরুতে ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রির কাঠমান্ডু সফরের প্রস্তাবিত কর্মসূচিও শাহ তাঁকে সাক্ষাতের সময় না দেওয়ায় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।
বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া নেপালের জাতীয় স্বার্থের পক্ষে সহায়ক নয়।
বিদেশনীতি বিশ্লেষক অরুণ সেবুদি আগে আইএএনএসকে বলেছিলেন, ‘‘প্রোটোকল যেন নেপালের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশ বা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।’’
—আইএএনএস


















