তেলিয়ামুড়া, ২৫ জুন: প্রবল দুর্যোগের মধ্যে তেলিয়ামুড়ার গামাইবাড়ি এলাকায় এক পরিবারের উপর নেমে এল বড় বিপদ। বুধবার রাতে একটি বিশালাকার গাছ ভেঙে পড়ে ত্রিপুরা পুলিশের এসপিও জওয়ান অর্জুন দাসের বসতঘরের ওপর। ঘটনায় ঘরের একাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান পরিবারের সদস্যরা।
জানা গেছে, বুধবার রাত প্রায় ১০টা ৩০ মিনিট নাগাদ আচমকাই গাছটি ভেঙে বাড়ির ওপর পড়ে। বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। এতে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে সঙ্গে সঙ্গেই মহকুমা প্রশাসনের দুর্যোগ মোকাবেলা বিভাগে খবর দেওয়া হয়। অভিযোগ, খবর পাওয়ার পর প্রথমে মাত্র একজন স্বেচ্ছাসেবক ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে তার কাছে গাছ অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো সরঞ্জাম ছিল না। ফলে তিনি কার্যত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাছ কাটার সরঞ্জাম নিয়ে আরও কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক মহকুমা শাসকের কার্যালয় চত্বরে যানবাহনের অপেক্ষায় ছিলেন। অভিযোগ, দুর্যোগ মোকাবেলা দলের জন্য স্থায়ী যানবাহনের ব্যবস্থা না থাকায় জরুরি পরিস্থিতিতেও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক মোটরসাইকেলে বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং গাছ অপসারণের কাজ শুরু করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, দুর্যোগ মোকাবেলায় নিয়োজিত একটি বিভাগের যদি পর্যাপ্ত যানবাহন ও সরঞ্জামের ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের সময় সাধারণ মানুষ কীভাবে দ্রুত সহায়তা পাবে?
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, তেলিয়ামুড়া মহকুমায় দুর্যোগ মোকাবেলা ব্যবস্থার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা নিয়ে অতীতেও অভিযোগ উঠেছে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি ও পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।


















