গুয়াহাটি, ২৫ জুন (আইএএনএস): উচ্চশিক্ষায় পড়ুয়াদের আর্থিক সহায়তা দিতে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১৭৬ কোটিরও বেশি টাকা বিনিয়োগ করেছে অসম সরকার। বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, রাজ্যের যুবসমাজকে শক্তিশালী করে তুলতে এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সরকারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের মাধ্যমে এই সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘মুখ্যমন্ত্রী নিজুত মইনা আঁচনি’ এবং ‘মুখ্যমন্ত্রী নিজুত বাবু আঁচনি’ প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক অসুবিধার কারণে যাতে কোনও মেধাবী ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনা বন্ধ না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই বিনিয়োগ করা হয়েছে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা লিখেছেন, “গত বছরে আমরা অসমের অন্যতম বড় শক্তি—আমাদের যুবসমাজের জন্য ১৭৬ কোটিরও বেশি টাকা বিনিয়োগ করেছি। নিজুত মইনা ও বাবু আঁচনি প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা আমাদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দিচ্ছি, যাতে তারা ভবিষ্যতে অসমের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।”
মুখ্যমন্ত্রীর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী নিজুত মইনা আঁচনি প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে মোট ২ লক্ষ ৭২৭ জন শিক্ষার্থী উপকৃত হয়েছেন। এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা হিসেবে মোট ১৬৭.০৫ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী নিজুত বাবু আঁচনি প্রকল্পের আওতায় ৪৯,৪৩৮ জন শিক্ষার্থী উপকৃত হয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে মোট ৯.৭৮ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
ফলে দুটি প্রকল্প মিলিয়ে আড়াই লক্ষেরও বেশি শিক্ষার্থী উপকৃত হয়েছেন এবং মোট আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ১৭৬ কোটিরও বেশি হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পগুলির লক্ষ্য হল যোগ্য ছাত্রছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা এবং বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারের সন্তানদের জন্য উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলা।
অসম সরকার দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষাক্ষেত্রকে মানবসম্পদ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। সেই লক্ষ্যেই শিক্ষায় ভর্তির হার বৃদ্ধি, স্কুলছুটের সংখ্যা কমানো এবং উচ্চশিক্ষায় উৎসাহ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে এই ধরনের বিনিয়োগ ভবিষ্যতে দক্ষ ও শিক্ষিত প্রজন্ম গড়ে তুলবে, যারা অসমের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরও জানান, শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং ছাত্রকল্যাণমূলক প্রকল্প সম্প্রসারণ আগামী দিনেও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে থাকবে।


















