ইম্ফল, ৯ আগস্ট (আইএএনএস): মণিপুরে পৃথক একাধিক যৌথ অভিযানে সাত জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। গত ২৪ ঘণ্টায় ইম্ফল পশ্চিম ও বিষ্ণুপুর জেলায় চালানো অভিযানে নিষিদ্ধ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে বলে রবিবার জানিয়েছেন সরকারি আধিকারিকরা।
এক প্রবীণ পুলিশ আধিকারিক জানান, মণিপুর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে সমন্বিত অভিযান চালিয়ে ওই সাত জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতরা নিষিদ্ধ কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টি (কেসিপি), পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-এর রাজনৈতিক শাখা রেভলিউশনারি পিপলস ফ্রন্ট (আরপিএফ) এবং কাংলেই ইয়াওল কান্না লুপ (কেওয়াইকেএল)-এর সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশের দাবি, ধৃতরা অপহরণ, জোর করে ‘চাঁদা’ আদায় এবং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনে যুবকদের নিয়োগের মতো বেআইনি কার্যকলাপে জড়িত ছিল। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন আপত্তিকর নথি, চাঁদা আদায়ের রসিদ, নগদ টাকা, নিষিদ্ধ সংগঠনগুলির সিল, লেটারহেড এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে ইম্ফল পূর্ব ও ইম্ফল পশ্চিম জেলায় তিনটি পৃথক যৌথ অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১১টি সিঙ্গল-ব্যারেল ব্রিচ-লোডিং শটগান, ছয়টি পিস্তল, একটি অ্যান্টি-রায়ট গান, ৩৭টি শক্তিশালী হ্যান্ড গ্রেনেড, একটি হোয়াইট ফসফরাস গ্রেনেড এবং প্রায় ৪.৬ কেজি ওজনের একটি আইইডি।
এছাড়াও এসএলআর, ইনসাস ও .৩০৩ রাইফেলের ছয়টি খালি ম্যাগাজিন, ৮৬টি বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ, ছয়টি অ্যান্টি-রায়ট শেল, একটি ভেহিকুলার সেট, দুটি হ্যান্ডহেল্ড সেট, বিভিন্ন ক্যালিবারের ১৬২টি জীবন্ত গুলি, ২৬টি খালি কার্তুজ এবং দুটি স্টান শেল উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানে সামরিক পোশাক, একটি বুলেটপ্রুফ লোহার প্লেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের কভার, অ্যামুনিশন চার্জার, যোগাযোগের সরঞ্জামসহ আরও বেশ কিছু সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, মণিপুরে জঙ্গিবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) এবং মণিপুর পুলিশের যৌথ বাহিনী রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত, মিশ্র জনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে তল্লাশি ও এলাকা নিয়ন্ত্রণ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে উপত্যকা ও পার্বত্য জেলাগুলিতে মোট ১১১টি নাকা ও চেকপয়েন্ট বসানো হয়েছে। এর মাধ্যমে জঙ্গি, সমাজবিরোধী ব্যক্তি এবং সন্দেহজনক যানবাহনের গতিবিধির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
পাশাপাশি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইম্ফল-জিরিবাম জাতীয় সড়ক (এনএইচ-৩৭) দিয়ে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবাহী ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সশস্ত্র নিরাপত্তা-প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলিতে কনভয় সুরক্ষা ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে, যাতে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচল নিরাপদ এবং নির্বিঘ্ন থাকে।
—আইএএনএস



















