নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২২ জুন: আগামী ২২ জুলাই থেকে সাতদিনব্যাপী রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী খার্চি উৎসব ও মেলার সূচনা হবে। এ উপলক্ষ্যে আজ সকালে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলাশাসকের কনফারেন্স হলে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। পুরাতন আগরতলা ব্লকের অন্তর্গত খয়েরপুরে চতুর্দশ দেবতা মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিতব্য এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবের প্রস্তুতি সভায় সভাপতিত্ব করেন বিধায়ক রতন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, খার্চি পূজা ত্রিপুরার জাতি, জনজাতি সহ সর্বস্তরের মানুষের মিলন উৎসব। ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সকলেই এই উৎসবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। রাজ্যের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম ধারক ও বাহক এই খার্চি উৎসব ও মেলা আজ গর্বের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর দেশ বিদেশের অসংখ্য পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থী এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবে অংশ নিতে ত্রিপুরায় সমবেত হন।
সভায় খার্চি উৎসব ও মেলার সুষ্ঠু আয়োজন সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। সভায় খার্চি উৎসব ও মেলাকে কেন্দ্র করে মন্দির ও আশপাশের এলাকার সর্বাঙ্গীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাস্তায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, পানীয়জলের ব্যবস্থা, মেডিক্যাল টিম রাখা প্রভৃতি বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। যানজট এড়াতে উপযুক্ত গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান নির্ধারণ ও স্টল বন্টনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, প্রতি বছরের মতো এবছরও খার্চি মেলা প্রাঙ্গণে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উদ্যোগে প্রদর্শনী স্টল খোলা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প নিয়ে প্রদর্শনী স্টলগুলিতে প্রদর্শন করার জন্য গুরুত্ব আরোপ করেন বিধায়ক রতন চক্রবর্তী। পাশাপাশি মেলা উপলক্ষ্যে প্রতিদিন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে হাবেলি এবং কৃষ্ণমালা মঞ্চে আয়োজিত হবে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বিশিষ্ট ও প্রতিভাবান শিল্পীগণ এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। মেলা প্রাঙ্গণে ফুড কোর্টও খোলার উপর আলোচনা হয়।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, এম.ডি.সি. গীতা রাণী দেববর্মা, পুরাতন আগরতলা পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান ঝর্ণা রাণী দাস, ভাইস চেয়ারম্যান মন্টি দেবনাথ, এ.ডি.এম. অরূপ দেব, এ.ডি.এম. অসিত দাস, সিনিয়র ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস দেববর্মা, সদর মহকুমার এস.ডি.এম. মানিকলাল দাস, জিরানীয়া মহকুমার এস.ডি.এম. অনিমেষ ধর, পুরাতন আগরতলা ব্লকের বিডিও রতন নম:, বিশিষ্ট সমাজসেবী গৌরাঙ্গ ভৌমিক, রাজেশ ভৌমিক, অভিজিৎ দেববর্মা সহ বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকগণ।



















