ওয়াশিংটন, ২২ জুন : ভারতের জন্য মোট ৪২৮.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের দুটি প্রতিরক্ষা সহায়তা প্যাকেজ অনুমোদন করেছে আমেরিকা। এর মধ্যে রয়েছে এম৭৭৭এ২ আল্ট্রা-লাইট হাউইটজার কামানের দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ এবং এএইচ-৬৪ই অ্যাপাচি যুদ্ধ হেলিকপ্টারের পরবর্তী পর্যায়ের সহায়তা পরিষেবা।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের অধীনস্থ প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা সংস্থা (ডিএসসিএ) গত সপ্তাহে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এবং তা মার্কিন কংগ্রেসের কাছেও পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবিত এই চুক্তিগুলি মূলত রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং লজিস্টিক পরিষেবা সংক্রান্ত; নতুন কোনও বড় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার বিষয় এতে নেই।
দুটি প্যাকেজের মধ্যে বড়টি ২৩ কোটি ডলারের, যা এম৭৭৭এ২ আল্ট্রা-লাইট হাউইটজার কামানের দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এর আওতায় অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ, মেরামত পরিষেবা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা, ফিল্ড সার্ভিস প্রতিনিধি, ডিপো সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য লজিস্টিক ও কর্মসূচিভিত্তিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই অনুমোদনের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে পেন্টাগন জানিয়েছে, এই চুক্তি ভারত-আমেরিকা কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শান্তি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকাকে আরও সুদৃঢ় করবে।
পেন্টাগনের মতে, এই সহায়তা ভারতের বর্তমান ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াবে, দেশের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করবে এবং আঞ্চলিক হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
এই প্যাকেজের প্রধান ঠিকাদার হিসেবে রয়েছে বিএই সিস্টেমস। সংস্থাটির সদর দপ্তর যুক্তরাজ্যের কামব্রিয়ায় অবস্থিত। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ভারতে অতিরিক্ত মার্কিন সরকারি বা ঠিকাদারি প্রতিনিধির প্রয়োজন হবে না।
অন্যদিকে, ১৯৮.২ মিলিয়ন ডলারের দ্বিতীয় প্যাকেজটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য। এর মধ্যে রয়েছে প্রকৌশল, প্রযুক্তিগত ও লজিস্টিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত নথিপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা।
এই প্রকল্পের প্রধান ঠিকাদার হিসেবে রয়েছে বোয়িং এবং লকহিড মার্টিন। পেন্টাগনের দাবি, এই চুক্তির ফলে মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতে কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, দুটি চুক্তির কোনওটিতেই ‘মেজর ডিফেন্স ইকুইপমেন্ট’ অন্তর্ভুক্ত নয় এবং বর্তমানে কোনও অফসেট চুক্তির তথ্যও নেই। সম্পূর্ণ অর্থ ভারত সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করবে।
গত দুই দশকে ভারত ও আমেরিকার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৮ সালে যেখানে দুই দেশের প্রতিরক্ষা বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় শূন্য ছিল, বর্তমানে তা ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। পাশাপাশি যৌথ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং লজিস্টিক অংশীদারিত্বও ধারাবাহিকভাবে বিস্তৃত হয়েছে।
_______



















