উলানবাটোর, ২২ জুন : ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর সোমবার মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটোরে সে দেশের বিদেশমন্ত্রী বাতসেতসেগ বাতমুনখের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে উন্নয়নমূলক প্রকল্প, দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, নিরাপত্তা এবং বহুপাক্ষিক মঞ্চে সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকের পর সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় জয়শঙ্কর জানান, ভারত-মঙ্গোলিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্বের উষ্ণতা, শক্তি ও সম্ভাবনাই আলোচনায় প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি লেখেন, “উলানবাটোরে বিদেশমন্ত্রী বাতসেতসেগ বাতমুনখের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনন্দিত। উন্নয়ন প্রকল্প, সক্ষমতা বৃদ্ধি, সংস্কৃতি, শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছি। এছাড়াও খনিজ সম্পদ, পরিচ্ছন্ন শক্তি এবং কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তৃতীয় প্রতিবেশী এবং আধ্যাত্মিক অংশীদার হিসেবে ভারত মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে প্রস্তুত।”
এর আগে সোমবারই দু’দিনের সরকারি সফরে মঙ্গোলিয়ায় পৌঁছন জয়শঙ্কর। সফরকালে তিনি মঙ্গোলিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
উলানবাটোরে পৌঁছে তিনি এক্স-এ লেখেন, “আজ মঙ্গোলিয়ায় পৌঁছে আনন্দিত। উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য স্টেট সেক্রেটারি মুংকতুশিগ ইলখানাজাভকে ধন্যবাদ। আমাদের বিশেষ অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিতে ফলপ্রসূ আলোচনা হবে বলে আশা করছি।”
উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে মঙ্গোলিয়ার রাষ্ট্রপতি খুরেলসুখ উখনা চার দিনের ভারত সফরে এসেছিলেন। সেই সফরে তিনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং উপরাষ্ট্রপতি সি. পি. রাধাকৃষ্ণনের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ভারত ও মঙ্গোলিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় ১৯৫৫ সালে। সমাজতান্ত্রিক গোষ্ঠীর বাইরের দেশগুলির মধ্যে ভারতই প্রথম মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এছাড়া মঙ্গোলিয়ার রাষ্ট্রসংঘ (ইউএন) এবং জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (ন্যাম)-এর সদস্যপদ লাভের ক্ষেত্রেও ভারত গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন দিয়েছিল।
মঙ্গোলিয়া সফর শেষে জয়শঙ্কর দক্ষিণ কোরিয়া সফরে যাবেন। ২৪ ও ২৫ জুন তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার বিদেশমন্ত্রী চো হিউনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। পাশাপাশি ২৫ জুন জেজুতে অনুষ্ঠিত ‘জেজু ফোরাম ফর পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি’-তে মূল বক্তৃতাও প্রদান করবেন।
























