আগরতলা, ২২ জুন : ধলাই জেলার কমলপুর মহকুমার অন্তর্গত বড়সুরমা থেকে মড়াছড়া, দুর্গাচৌমুহনী হয়ে কচুছড়া পর্যন্ত বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বেহাল দশা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটির বিভিন্ন অংশ বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু বছর ধরে রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে স্থায়ী মেরামতির কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার গর্তগুলো পানিতে ভরে যাওয়ায় কোথায় রাস্তা আর কোথায় গভীর খাদ, তা বোঝা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে প্রায়শই ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে।
এই সড়কটি বড়সুরমা, মড়াছড়া, দুর্গাচৌমুহনী ও কচুছড়া-সহ একাধিক গ্রামের মানুষের প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী, কৃষক এবং রোগীবাহী যানবাহন এই রাস্তা ব্যবহার করে। কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও অ্যাম্বুল্যান্স চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কয়েক মাস আগে সামান্য সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। উল্টে দিন দিন রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোট শেষ হতেই এলাকার সমস্যাগুলো উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।
এলাকার ব্যবসায়ীরাও জানান, খারাপ রাস্তার কারণে পণ্য পরিবহণে অতিরিক্ত সময় লাগছে এবং যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকরাও উৎপাদিত ফসল বাজারে নিয়ে যেতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
স্থানীয় জনগণের একটাই দাবি, বড়সুরমা-মড়াছড়া-দুর্গাচৌমুহনী-কচুছড়া সড়কটির দ্রুত ও স্থায়ী সংস্কারের ব্যবস্থা করা হোক। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তাদের কথায়, “রাস্তা নয়, যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে এই সড়ক। প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। আর কতদিন এই দুর্ভোগ সহ্য করতে হবে?”



















