জবলপুর, ২১ জুন (আইএএনএস): ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের গ্যারিসন গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক বৃহৎ যোগ কর্মসূচিতে অংশ নিলেন রাষ্ট্রপতি। রবিবার অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তিনি নাগরিকদের সুস্থ ও সুষম জীবনযাপনের জন্য যোগচর্চা গ্রহণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী । অন্যদিকে, ছত্তীসগড়ের মুখ্যমন্ত্রী অম্বিকাপুরে আয়োজিত সমান্তরাল কর্মসূচিতে যোগ দেন।
এবারের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘সুস্থ প্রবীণদের জন্য যোগ’, যা সকল বয়সের মানুষের, বিশেষ করে প্রবীণদের সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতার ক্ষেত্রে যোগের গুরুত্বকে তুলে ধরে।
সমবেত জনতার উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি মুর্মু দেশ-বিদেশের সকল যোগসাধককে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, জবলপুরের এই পবিত্র ভূমিতে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি আনন্দিত। দেশে ও বিদেশে থাকা সকল যোগপ্রেমীকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের শুভেচ্ছা জানাই। যোগ মানবজাতিকে সুস্থ, সুষম এবং অর্থবহ জীবনের পথ দেখিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি যোগকে ভারতের প্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের “অমূল্য উপহার” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, হাজার বছরের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত যোগ শরীর, মন ও আত্মার মধ্যে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা করে, যা ভারতীয় শাস্ত্র ও দর্শনের অন্যতম মূল ভিত্তি।
তিনি আরও বলেন, যোগের প্রকৃত অর্থ হলো সমাজ ও প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়া। এটি সমগ্র মানবজাতিকে বৈশ্বিক চেতনার সঙ্গে যুক্ত করার এক শক্তিশালী মাধ্যম।
বর্তমান বিশ্বের নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি বলেন, যোগ মানবতাকে শান্তি, ভারসাম্য, সম্প্রীতি এবং সামষ্টিক কল্যাণের পথে পরিচালিত করে।
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ ২১ জুনকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে সারা বিশ্বে যোগচর্চা ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এবং কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।
মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবও যোগকে ভারতের প্রাচীন সংস্কৃতির “অমূল্য ঐতিহ্য” হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি মহর্ষি পতঞ্জলির প্রবর্তিত অষ্টাঙ্গ যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এটি কেবল শারীরিক সুস্থতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং শরীর, মন ও আত্মার সার্বিক বিকাশে সহায়তা করে।
তিনি বলেন, নিয়মিত যোগাভ্যাসের মাধ্যমে আমরা সুস্থ শরীর, শান্ত মন এবং আনন্দময়, সুষম জীবন অর্জন করতে পারি।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বয়সের শত শত মানুষ একসঙ্গে যোগাসন অনুশীলন করেন। এতে ঐক্য, সুস্থতা ও ইতিবাচকতার এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে প্রবীণদের জন্য যোগের উপযোগিতা তুলে ধরে এ বছরের প্রতিপাদ্য তাদের চলাফেরার সক্ষমতা, মানসিক স্বচ্ছতা এবং আবেগগত ভারসাম্য বজায় রাখতে যোগের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।



















