নয়াদিল্লি, ২১ জুন (আইএএনএস): ভারতের সামুদ্রিক ও জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে তিনটি ভারতীয় পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে ভারতের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। জাহাজগুলিতে মোট ৮.৬ লক্ষ মেট্রিক টনেরও বেশি কৌশলগত জ্বালানি কার্গো রয়েছে।
এমন এক সময়ে এই সাফল্য এল, যখন পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এই সফল যাত্রার কথা জানিয়ে বলেন, দেশের সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষায় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
এক্স-এ এক পোস্টে তিনি লেখেন, “নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত হয়েছে। ভারতীয় পতাকাবাহী তিনটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ— ‘দেশ বৈভব’, ‘দেশ বিভোর’ এবং ‘সানমার হেরাল্ড’— ৯৪ জন ভারতীয় নাবিককে সঙ্গে নিয়ে ৮.৬ লক্ষ মেট্রিক টনেরও বেশি কার্গো বহন করে আজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে এবং ভারতের পথে রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-এর নেতৃত্বে ভারত সরকার দেশের সামুদ্রিক স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। নাবিকদের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে মন্ত্রক।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ‘দেশ বৈভব’, ‘দেশ বিভোর’ এবং ‘সানমার হেরাল্ড’ নামের তিনটি জাহাজ যথাক্রমে ২৪ জুন থেকে ১ জুলাইয়ের মধ্যে ভারতের বিভিন্ন বন্দরে পৌঁছাবে।
‘দেশ বৈভব’ ২৪ জুন ভাদিনার বন্দর-এ পৌঁছানোর কথা রয়েছে। একই দিনে ‘দেশ বিভোর’ পৌঁছাবে সিক্কা বন্দর-এ। অন্যদিকে, ২০ জুন হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করা ‘সানমার হেরাল্ড’ ১ জুলাই পারাদীপ বন্দর-এ পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক চলাচলের উপর আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নেয়। আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতির পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার ফলে তেলবাহী জাহাজগুলির চলাচল আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
একই দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বলে জানা গেছে। ওই চুক্তিতে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমানো এবং কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর ফলে ইরানের তেল রপ্তানির পথ সুগম হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ পুনরায় খুলে যায়, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বস্তি এনে দেয়।
ভারতের মতো আমদানিনির্ভর জ্বালানি অর্থনীতির জন্য এই নিরাপদ যাত্রা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে এই তিন জাহাজের সফল যাত্রাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও পরিচালনাগত সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা একদিকে পশ্চিম এশিয়ার কূটনৈতিক অগ্রগতির প্রতিফলন, অন্যদিকে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষার প্রতি অঙ্গীকারকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।
_______



















