নয়াদিল্লি, ৫ আগস্ট: ত্রিপুরার আদিবাসী উৎপাদকদের আয় বৃদ্ধি, বনজ সম্পদের মূল্য সংযোজন এবং জাতীয় বাজারের সঙ্গে সংযুক্তিকরণের লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকারের একাধিক উদ্যোগ ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করেছে। আজ রাজ্যসভায় এক লিখিত উত্তরে কেন্দ্রীয় জনজাতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দুর্গাদাস উইকে জানান, জনজাতি বিষয়ক মন্ত্রকের অধীন ট্রাইফেড পরিচালিত ‘প্রধানমন্ত্রী জনজাতীয় বিকাশ মিশন’ প্রকল্পের মাধ্যমে ত্রিপুরার হাজার হাজার আদিবাসী পরিবার সরাসরি উপকৃত হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী জনজাতীয় বিকাশ মিশনের আওতায় ট্রাইফেড খুচরো বিপণন, অপ্রধান বনজ উৎপাদনের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাস্তবায়ন, পরিকাঠামো উন্নয়ন, বন ধন বিকাশ কেন্দ্র পরিচালনা এবং গবেষণা ও উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি আদিবাসী শিল্পী ও উৎপাদকদের চিহ্নিত করে তাদের তৈরি হস্তশিল্প, হস্ততাঁত, প্রাকৃতিক ও খাদ্যজাত পণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাজারজাত করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ত্রিপুরায় ট্রাইফেড ইতিমধ্যে ৪৭০ জন আদিবাসী শিল্পী ও সরবরাহকারীকে তালিকাভুক্ত করেছে, যাদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ২,৯৫৭টি আদিবাসী পরিবার। এসব শিল্পী ও উৎপাদকদের বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা করতে রাজ্যে ট্রাইবাল আর্টিজান এমপ্যানেলমেন্ট মেলা আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া ‘আদি বাজার’ এবং ‘আদি মহোৎসব’-এর মতো জাতীয় স্তরের প্রদর্শনী ও বিপণন মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান করা হচ্ছে। ট্রাইফেডের দেশব্যাপী ১১৫টি ‘ট্রাইবস ইন্ডিয়া’ বিক্রয়কেন্দ্র, বিভিন্ন প্রদর্শনী এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ত্রিপুরার আদিবাসী উৎপাদকদের পণ্য দেশজুড়ে বাজার পাচ্ছে।
রাজ্যসভায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ত্রিপুরায় বর্তমানে মোট ৮৭টি বন ধন বিকাশ কেন্দ্র অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি প্রধানমন্ত্রী জনজাতি আদিবাসী ন্যায় মহা অভিযান এবং ৫৭টি প্রধানমন্ত্রী জনজাতীয় বিকাশ মিশন এর আওতায়। এই কেন্দ্রগুলির সঙ্গে মোট ১৮,৬৬৬ জন উপভোক্তা যুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে পিএম জনমন-এর আওতায় ২,৫৫০ জন এবং পিএমজেভিএম-এর আওতায় ১৬,১১৬ জন রয়েছেন।
এই ৮৭টি কেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ৮০টি বন ধন বিকাশ কেন্দ্র কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এই কেন্দ্রগুলির সঙ্গে যুক্ত স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি (SHG) স্থানীয় বাজার, মেলা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে ১ কোটি ১৩ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকারও বেশি মূল্যের মূল্য সংযোজিত বনজ ও অন্যান্য পণ্য বিক্রি করেছে। এর ফলে ত্রিপুরার আদিবাসী স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং বনভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলির জন্য বৃহত্তর বাজারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে কেন্দ্রের দাবি।
মন্ত্রী আরও জানান, কেন্দ্র সরকার মোট ৮৭ ধরনের অপ্রধান বনজ পণ্যের জন্য ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করেছে, যা ত্রিপুরাসহ দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রযোজ্য। এই তালিকায় তেঁতুল, বুনো মধু, শালবীজ, মহুয়া, ঝাড়ু ঘাস, বেল, কালমেঘ,, বন তুলসী, বাঁশের ঝাড়ু, শুকনো আমলকি, কাজুবাদাম, শুকনো আদা, কালো চাল, জোহা চাল, কিং চিলি, সরিষা, প বাঁশকোঁড়ল, মাশরুম, সহ বহু বনজ, কৃষিজ ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কেন্দ্রের মতে, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য, মূল্য সংযোজন, প্রশিক্ষণ, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে উৎপাদন এবং জাতীয় পর্যায়ে বিপণনের সুযোগ বৃদ্ধির ফলে ত্রিপুরার আদিবাসী উৎপাদকদের আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বনভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
























