কলকাতা, ২১ জুন (আইএএনএস) : ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর প্রতি যোগকে দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যোগ সুস্থ জীবনযাপন, সুস্থ মন এবং দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রবিবার সকালে কলকাতার কেন্দ্রস্থল রেড রোডে আয়োজিত এক বৃহৎ যোগ অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিপুল সংখ্যক যোগপ্রেমীদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগ সকলকে একসূত্রে বেঁধে দেয়। তাই ২১ জুন আজ বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম উৎসবে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, আজ কলকাতার মানুষ যেভাবে এই বৈশ্বিক উৎসবে অংশগ্রহণ করেছেন, তা দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। মনে রাখবেন, যোগ এমন একটি অনুশীলন যা বার্ধক্যের প্রভাবকে কর্মক্ষমতার উপর পড়তে দেয় না। যদি আপনি যোগকে নিজের এবং পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলেন, তাহলে পঞ্চাশ বছর বয়সেও নিজেকে ত্রিশের মতো এবং সত্তর বছর বয়সেও চল্লিশের মতো অনুভব করবেন।
এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলার সঙ্গে যোগের গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন। বিশেষ করে কীভাবে স্বামী বিবেকানন্দ যোগকে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত করেছিলেন, সে প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি।
মোদি বলেন, ১৮৯৩ সালে স্বামীজি বলেছিলেন, যোগই মুক্তির একমাত্র পথ। তিনি যোগকে আনন্দ ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। মন ও শরীরের বিকাশে যোগের গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেছিলেন। যোগ পশ্চিমবঙ্গের প্রাচীন সংস্কৃতিরই অংশ।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সুস্থতার জন্য যোগকে সীমাবদ্ধ করে দেখা উচিত নয়। একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনের ক্ষেত্রেও যোগের বড় ভূমিকা রয়েছে। তাই যোগকে শুধু একটি বিশেষ দিন বা অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবেন না। এটিকে প্রতিদিনের জীবনের অংশ করে তুলুন, বলেন তিনি।
যোগের সঙ্গে সংযমী জীবনযাপনের গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভগবদ্গীতাতেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, সংযমী আহার, কর্ম এবং নিদ্রার সঙ্গে যোগকে যুক্ত করতে হবে। তবেই জীবন সুন্দর হয়ে উঠবে।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন মুহূর্ত সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ ভাগ করে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, শারীরিক সুস্থতা থেকে মানসিক শান্তি, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যোগ সমৃদ্ধি এনে দেয়। কলকাতায় এ বছরের উদ্যাপনে অংশ নিতে পেরে আমি আনন্দিত।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। তিনি বলেন, যোগের শিকড় বাংলায় থাকলেও অতীতে সচেতনভাবে একে মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজ একটি শুভ দিন। তাই অতীতে কেন যোগকে বাংলার মানুষের জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছিল, তা নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। আগে রাজ্য সরকারের কোনও সম্পৃক্ততা ছিল না। কেন ছিল না, সেটাও বলতে চাই না। কিন্তু এবার পশ্চিমবঙ্গের মানুষ একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই এ বছর আন্তর্জাতিক যোগ দিবস রাজ্যজুড়ে উদ্যাপিত হচ্ছে। আমার বিশ্বাস, এক কোটিরও বেশি মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
ভাষণ পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ উপস্থিত সকলেই যোগাভ্যাসে অংশ নেন।



















