নয়াদিল্লি, ১৮ জুন (আইএএনএস): আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও তার প্রভাব সঙ্গে সঙ্গে ভারতের পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো দামে পড়ে না বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস এবং পর্যটন প্রতিমন্ত্রী সুরেশ গোপী।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে একাধিক বিষয় প্রভাব ফেলে। আন্তর্জাতিক বাজারে কম দামে কেনা অপরিশোধিত তেল ভারতে পৌঁছাতে সময় লাগে, ফলে দামের পরিবর্তন তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা সম্ভব হয় না।
মন্ত্রী বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে বলেই সম্প্রতি বাড়ানো জ্বালানির দাম অবিলম্বে কমিয়ে দেওয়া যাবে না।”
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, “কম দামে কেনা অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতে আসতে সময় লাগবে। সেখানে জাহাজ চলাচলের চাপও বেশি থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।”
সুরেশ গোপীর দাবি, চলতি বছরের শুরুতে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তার ফলে তেল বিপণন সংস্থাগুলি (ওএমসি) ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না ফেলতে কেন্দ্র সরকার উচ্চমূল্যের অপরিশোধিত তেলের প্রভাবের একটি বড় অংশ নিজেই বহন করেছে।
মন্ত্রী বলেন, “এই অতিরিক্ত বোঝা বহন করতে গিয়ে কেন্দ্র সরকারের প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়লেও কোনও রাজ্য তাদের শুল্ক কমিয়ে রাজস্ব ত্যাগ করেনি। কেন্দ্র সরকারকে যেমন চলতে হবে, তেমনই তেল সংস্থাগুলোকেও টিকে থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের জ্বালানির দাম নির্ধারণে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের মূল্যের পাশাপাশি পরিবহণ ব্যয়, বাজার পরিস্থিতি এবং অন্যান্য লজিস্টিক সংক্রান্ত বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৬৪ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭৮ ডলারে নেমে আসে। একইভাবে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ২ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭৫ ডলারে দাঁড়ায়।
পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতায় অগ্রগতি হওয়ার পরই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে এই পতন দেখা গেছে।



















