কোচি, ১৮ জুন (আইএএনএস): কেরলকে কেন্দ্র করে পরিচালিত আন্তর্জাতিক অঙ্গপাচার চক্রের অভিযোগে তদন্ত আরও জোরদার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বৃহস্পতিবার সংস্থার আধিকারিকরা একযোগে কোচির বেসরকারি হাসপাতাল-সহ পাঁচটি স্থানে তল্লাশি চালান।
অর্থপাচার সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দালালদের মাধ্যমে অঙ্গদাতা ও গ্রহীতাদের সংযুক্ত করে বেআইনি অঙ্গ প্রতিস্থাপন বাণিজ্য পরিচালনা করছিল।
ইডির বিভিন্ন দল বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই রাজ্যের একাধিক স্থানে একযোগে তল্লাশি শুরু করে। কোচির একটি কর্পোরেট হাসপাতালের পাশাপাশি রাজ্যের আরও কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালানো হয়।
কোল্লামে এক মহিলার বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, তিনি এই চক্রের অন্যতম মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেন।
এছাড়া অভিযুক্তদের আরও কয়েকজনের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কাসারগোড়ের এক বাসিন্দা, যিনি গত মাসে উত্তরপ্রদেশে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন, এবং তাঁর এক সহযোগী।
তল্লাশি চলাকালীন উদ্ধার হওয়া আর্থিক নথি, ডিজিটাল রেকর্ড, বিল-ভাউচার এবং অন্যান্য নথিপত্র খতিয়ে দেখছে ইডি। তদন্তকারীদের ধারণা, অঙ্গ প্রতিস্থাপনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিপুল অঙ্কের কমিশন লেনদেন হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত চক্রটি অঙ্গদাতা ও গ্রহীতাদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা পরীক্ষার ব্যবস্থার বিনিময়ে কমিশন আদায় করত।
এই লেনদেনের অর্থ অভিযুক্তদের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছেছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-এর আওতায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে ইডি। সংস্থার দাবি, অঙ্গ প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এই চক্র বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ উপার্জন করেছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, অঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া সহজ করতে একাধিক জাল নথি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।
ইডি খতিয়ে দেখছে, হাসপাতালের জাল লেটারহেড, ভুয়ো পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট এবং জনপ্রতিনিধি ও শীর্ষ সরকারি আধিকারিকদের নকল স্বাক্ষরযুক্ত সুপারিশপত্র তৈরি করে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না।
এছাড়াও, কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত অঙ্গ প্রতিস্থাপন ব্যবস্থার যাচাই প্রক্রিয়া কীভাবে এই ধরনের নথির মাধ্যমে অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক এবং মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
























