আগরতলা, ১৮ জুন : নারী নির্যাতন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বেকারত্ব, মাদকদ্রব্যের বিস্তার এবং পুরনিগম এলাকায় কর বৃদ্ধি-সহ বিভিন্ন জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে পশ্চিম ত্রিপুরার জেলাশাসকের নিকট ডেপুটেশন প্রদান করল আমরা বাঙালি দল। দলের এক প্রতিনিধি দল জেলাশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ছয় দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি তুলে দেয়।
দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, রাজ্যে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, পেট্রোল-ডিজেল, রান্নার গ্যাস, ওষুধপত্র, ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি নারীঘটিত অপরাধ, মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের বিস্তার রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে বলেও দাবি করা হয়।
প্রতিনিধি দলের বক্তব্য, গত ১০ জুন শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলে মনীষা দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যু এবং ১২ জুন উদয়পুর মহকুমার আঠারভোলা দারকাথাং এলাকায় নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় রাজ্যবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই ধরনের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবি জানায় সংগঠনটি।
স্মারকলিপিতে তারা দাবি জানায়, শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজে মনীষা দাসের মৃত্যুর ঘটনায় কর্মরত হাইকোর্টের একজন বিচারপতিকে দিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। নারী নির্যাতনের ঘটনায় রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন এবং দ্রুত বিচারের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনি সংশোধনের দাবিও জানানো হয়।
এছাড়াও, মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রি বন্ধ, কালোবাজারি দমন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, ব্লকভিত্তিক শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে রাজ্যের সকল মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং পুরনিগমের বর্ধিত এলাকায় খালি জমির উপর আরোপিত বর্ধিত কর প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
দলের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয় যে, সাধারণ মানুষের স্বার্থে উত্থাপিত এই দাবিগুলির বিষয়ে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।



















