আগরতলা, ১৫ জুন : গোলাঘাটি বিধানসভার অন্তর্গত জম্পুইজলা আরডি ব্লকের লুনতাইছড়া এলাকার ৮০ বছর বয়সী অসহায় বৃদ্ধা রোশনারা বেগমের দুর্দশার খবর সামনে আসতেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে রাজ্য মহিলা কমিশন। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই বৃদ্ধার বাড়িতে সোমবার সরেজমিনে পরিদর্শনে যান রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপারসন ঝর্না দেববর্মা-সহ কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল।
জানা গেছে, ২০০০ সাল থেকে লুনতাইছড়া এলাকায় আগরতলা-সাবরুম জাতীয় সড়কের ধারে সরকারি খাস জমিতে একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করে আসছেন রোশনারা বেগম। বহু বছর আগে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করছেন তিনি। তাঁর ছেলে মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনোরকমে সংসার চালালেও পরিবারটি আজ পর্যন্ত বিদ্যুৎ, সামাজিক ভাতা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর, শৌচালয়সহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নজরের বাইরে থেকে গেছে এই পরিবারটি। বারবার আবেদন জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। জানা যায়, ২০২৩ সালে রোশনারা বেগম বৃদ্ধা ভাতার জন্য সিপাহিজলা জেলার জেলা শাসকের কাছে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু এত বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনও ভাতার সুবিধা পাননি।
সোমবার মহিলা কমিশনের প্রতিনিধি দল রোশনারা বেগমের বাড়িতে পৌঁছে তাঁর বসবাসের অবস্থা দেখে বিস্মিত হন। ঘরের চাল ফুটো হয়ে বৃষ্টির জল ঘরের ভেতরে পড়ছে, নেই বিদ্যুৎ সংযোগ, নেই ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা। সব মিলিয়ে অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় দিন কাটছে পরিবারটির।
এদিন চেয়ারপারসন ঝর্না দেববর্মা পরিবারটির সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে দ্রুত সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি বৃদ্ধা ভাতা চালুর দাবিতে মহিলা কমিশনের পক্ষ থেকে সিপাহিজলা জেলার জেলা শাসকের কাছে একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
মহিলা কমিশনের এই উদ্যোগে পরিবারটির মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটাতে সক্ষম হয়।



















